#দেশের খবর

বরিশালে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মিদের হামলার ঘটনায় রাতভর মাঠে সরব ছিলো হাজারো নেতাকর্মি, সকালেও তারা শ্রমিকলীগের মাধ্যমে বরিশাল নগরীর দুটি বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সকল গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের ও গ্রেফতার অভিযান শুরু করার পর পাল্টে যায় চিত্র। দুপুরের পর থেকে পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন পুলিশের হাতে।

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে ব্যানার সরানোকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের গুলিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত।

এদিকে মেয়রের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছাত্রলীগ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থানা কাউন্সিলের প্রধান ফটকে এসে জড়ো হয়। পরে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দিকে ইট পাটকেল ছোঁড়ে। এসময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিক্ষুব্দরা বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থান নিলে সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এর মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে হট্টগোল বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেইসঙ্গে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু ও রুপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবুসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, দুটি মামলার মধ্যে একটির বাদী বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান এবং অপরটির বাদী পুলিশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মামলায় তার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর পুলিশের দায়ের করা মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর আক্রমণ ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, দুটি মামলায় ৩০-৪০ জনের মতো নামধারী এবং কয়েকশত অজ্ঞাত আসামি রয়েছে।

এদিকে বেলা পৌনে ১২টার দিকে নগরের কালিবাড়ি রোডস্থ মেয়রের বাসভবন হঠাৎ করেই ঘিরে ফেলেন র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। এ সময় সেখানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। মেয়রের বাসার ভেতরে নেতাকর্মীরা যেতে চাইলে তাতেও পুলিশ বাধা দেয়। তবে কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে যান।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল রাতের ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন তাদের কেউ কেউ ওখানে অবস্থান করছেন। সেজন্য সেখানে যাওয়া, তবে সেখানে গিয়ে সেরকম কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কাউকে সেখান থেকে আটকও করা হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *