দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর উদ্বোধন।
পদ্মা সেতুর আগে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘতম সড়ক ও রেল সেতু ছিল ‘বগিবিল সেতু’। কিন্তু পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর বগিবিল সেতুর ”দীর্ঘতম” তকমার অবসান হলো। কারণ, বগিবেল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৯৪ কিলো মিটার, আর পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ ৬ দশমিক ১৫ কিলো মিটার। অর্থাৎ বগিবিল সেতুর তুলনায় পদ্মাসেতু ১ দশমিক ২১ কিলোমিটার বড়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম “সড়ক সেতু”র তকমা কিন্তু এখনো দখল করে আছে ভারতের ভুপেন হাজারিকা সেতু বা ধলা সাদিয়া ব্রিজ। ভূপেন হাজারিকা সেতু বা ধলা সাদিয়া সেতু হল পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যে লোহিত নদীর উপর নির্মিত একটি সেতু। এটি ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সড়ক সেতুর। ধলা থেকে সাদিয়া পর্যন্ত ৯ কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্য জুড়ে ব্রহ্মপুত্রের উপনদী লোহিত নদীর উপরে তৈরি হয়েছে ভূপেন হাজারিকা সেতু। সেতুটি ভারতের ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড় ঢোলা ও সাদিয়াকে যুক্ত করেছে। তবে সড়ক ও রেল সেতু বা দ্বিতল সেতু হিসেবে পদ্মাসেতুই এখন দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সেতু। এই সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আজ।
পদ্মাসেতু শুধু যে রাজধানী সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করবে তাই না, বরং এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ ও বাণিজ্যেও অবদান রাখবে। এর ফলে সময় ও পরিবহন খরচ কমানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ২১টি জেলার জন্য এবং সমগ্র জাতির জন্য পদ্মাসেতু সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ে-১ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও কাজ করবে, যা এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা এবং উপমহাদেশে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করবে।
বাংলাদেশ ২০০৯ সালের আগস্টে ৩২টি দেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া ১ লাখ ৪৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক মহাসড়কের মাধ্যমে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে জাতিসংঘকর্তৃক পরিকল্পিত এই নেটওয়ার্কে যোগ দেয়।
বাংলাদেশ এএইচ-১, এএইচ-২ ও এএইচ-৪১ নামে ৩টি এশীয় মহাসড়ক রুটের সঙ্গে যুক্ত, যার মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার।
এএইচ-১, সিলেট-ঢাকা-নড়াইল-যশোর হয়ে আসামকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এর দুটি জায়গায় সংযোগ অনুপস্থিত ছিল। তাদের একটি পদ্মা সেতু অপরটি নড়াইলের কালনা সেতু।
এই দুটি সেতুর মধ্যে কালনায় ৬৯০ মিটার সেতু নির্মাণ তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। তবে পদ্মা নদীর উপর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুটি কাজের পরিমাপের দিক থেকে নির্মাণ করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল।
পদ্মাসেতু দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এই সেতুর উপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।





