জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি। ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকি !
ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বেড়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে। ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ডিজেলে লিটার প্রতি ১৩ টাকা ১ পয়সা এবং ফার্ণেস অয়েলে ৬ টাকা ২১ পয়সা কম দামে বিক্রি করছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। অক্টোবর মাসে সবমিলে ২৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২৪শে এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে সমন্বয় করা হয়েছিল।
বিশ্ববাজারের সাথে মিল করে ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্ব্য় করছে। ১লা নবেম্বর ভারতে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ১০১ রূপি ৫৬ পয়সা বা ১২৪ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২০০৮ সালের ২২শে ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং অন্যান্য সকল বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার অথবা ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা।
পরিবহন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনেরসহ সাধারণ সম্পাদক রাকেশ ঘোষ বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শুক্রবার থেকে সারাদেশে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এর আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ড ভ্যান ড্রাইভার ইউনিয়ন জানায়, দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না হলে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে এ কর্মসূচি দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো গাড়ি চলবে না সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য।”
বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ড ভ্যান ড্রাইভার ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মনির বলেন, “তেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার না করলে আমরা আগামীকাল সকাল থেকে পণ্যপরিবহনবাহী সব যানবাহন অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাব। মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের তাজুল ইসলাম বলেন, “আগের দশ দফা দাবি মানা হয়নি, টোল বাড়িয়েছে, এখন লিটারে ১৫ টাকা করে দাম বাড়ানো হল- সব মিলিয়ে কী করব আমরা। এ অবস্থায় আমাদের কোনো উপায় নেই।”
এদিকে তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সরকারি ঘোষণা এখনও না এলেও অনেক এলাকায় মালিকরা নিজেরাই নিজেদের মর্জি মাফিক ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ আসছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা। নারায়ণগঞ্জে এক লাফে বাস ভাড়া বেড়েছে ১৪ টাকা।
বাস মালিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, “সরকারকে হয় এই মূল্য বৃদ্ধি বাদ দিতে হবে, না হয় গাড়ি ভাড়া বাড়াতে হবে।”





