#দেশের খবর

চালের দাম এখনো বাড়তি।

বছর জুড়েই চালের বাজারে অস্থিরতা। দামের ঊর্ধ্বমুখীতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। অন্যদিকে বাজার চড়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন চালও সংগ্রহ করতে পারছে না সরকার। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আজ রোববার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে চালের বাজারের অস্থিরতা ও সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন মন্ত্রী। শনিবার বিকালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন মেহেদী গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকারি পদক্ষেপগুলো নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় অনলাইনে জুম অ্যাপের মাধ্যমে এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

আমনের ভরা মৌসুমে গরিবের মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। চাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় সরকারের আমন সংগ্রহ কর্মসূচি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কমছে সরকারি মজুতও। এই পরিস্থিতিতে বাজার সামাল দিতে আমদানিতে নেমেছে সরকার।
জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত অর্ধেকে নেমেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুত হয়েছে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫০ টন। এর মধ্যে চাল ৫ লাখ ৪২ হাজার ৬০ টন এবং গম ২ লাখ ৪ হাজার ২৯০ টন। গত বছর একই সময়ে মোট মজুতের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৮০ টন। এর মধ্যে চাল ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৬০ টন এবং গম ৩ লাখ ২৭ হাজার ২২০ টন।

গত ২৮শে অক্টোবর খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় চলতি আমন মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ২ লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাজারে ধান-চালের দাম অনেক বেশি হওয়ায় সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি নেই। সরকারি গুদামে ধান-চাল দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কৃষক ও মিল মালিকরা। খাদ্য অধিদপ্তরের ২৩শে ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ৩০৬ টন ধান, ১৩ হাজার ৫৬৭ টন সেদ্ধ চাল ও ৪৪৮ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *