#দেশের খবর

কোরবানীর পশুর চামড়া চক্রান্তে বঞ্চিত হচ্ছে এতিম ও ভিক্ষুক !

এম হায়দার চৌধুরী, হবিগঞ্জ :: ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুইটি ধর্মীয় বার্ষিক উৎসবের মধ্যে ঈদ-উল আজহা হচ্ছে দ্বিতীয়। ঈদ-উল আজহা বা কুরবানীর ঈদ আমাদের বার্ষিক ধর্মীয় উৎসব। এই ঈদুল আজহার ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনেক প্রাচীনকালের। সেই ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দেড় হাজার বছর ধরে মুসলিমবিশ্ব প্রতি বছরই জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে পবিত্র ঈদ-উল আজহা পালন করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে জিলহজ্জ মাসের দশ এগার ও বার তারিখ এই তিন দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কোরবানী দিয়ে থাকে।
গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে কোরবানীর পশুর চামড়ার মূল্যে সীমাহীন ধ্বস নেমেছে। এক সময়ের ২ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চামড়া এখন শুধু বিশ টাকাতেও বিক্রি হয় না। গণমাধ্যমে প্রকাশ কোথাও কোথাও এবার চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেলা হয়েছে আবার কোথাও মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। অথচ কিছুদিন আগেও দেখা গেছে কোরবানির ঈদের আগে ও পরে স্থানীয় পশুর চামড়া ক্রেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাক্ষাৎ করতেন চামড়া পাওয়ার জন্য। সুযোগ বুঝে চামড়া বিক্রেতাদের আগাম টাকা দেয়ার নিয়মও ছিল। আবার সে সময় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের (শুধু কোরবানির পশুর চামড়া ক্রেতা) সাক্ষাৎও পাওয়া যেত। চামড়া ক্রেতা পাইকাররা গ্রামে গ্রামে নিজেদের পরিচিত লোকদের আগাম টাকা দিয়ে রাখতো। উদ্দেশ্য ওই গ্রামের সমুদয় চামড়া যেন তার দোকানে যায়। গ্রামে শহরে সর্বত্র চামড়া ক্রয় করতে এর মূল্য নিয়ে গ্রতিযোগীতা করতেও দেখা গেছে।
হাজার বছরের ঐতিহ্য এর ইতিহাস থেকে জানা যায়, দেশের নব্বই ভাগ কোরবানীদাতা তাঁর কোরবানীর পশুর চামড়া স্থানীয় মাদরাসায় দান করেন। আবার কেউ-কেউ চামড়ার ন্যায্য মূল্যের অর্ধেক দামে মাদরাসায় বিক্রি করেন। এর উদ্দেশ্য মাদরাসায় দান করা ও ভিক্ষুকের পাওনা মেটানো দু’টো কাজই একসাথে করা। এতে এটা স্পষ্ট যে কোরবানীর মাসে দান সরূপ পশুর চামড়া প্রাপ্তির মাধ্যমে মাদরাসাগুলো আর্থিক সচ্ছলতায় সমৃদ্ধ হয়। পাশাপাশি ভিক্ষুকরাও বিভিন্ন মাধ্যমে কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রির টাকার অংশ পেয়ে অনেক টাকার মালিক হয়ে যায়। যা দিয়ে ভিক্ষুকরা তাদের অনেক প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে কোরবানীর পশুর চামড়ার মূল্যের এ মহামারীতে কার কার ব্যাংক ব্যালেন্স রাতারাতি শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে তা আলোচ্য বিষয় নয়। তবে কোরবানীর পশুর চামড়ার মূল্যের এ কারসাজিতে লিপ্ত দুষ্টচক্রের এ ষড়যন্ত্রমূলক নীল নকশার যাতাকলে নিরীহ লোকজন নিষ্পেষিত হচ্ছে তা স্পষ্টই প্রতীয়মান হয়। বিশেষ করে মাদ্রাসা কেন্দ্রীক নিরীহ, নিঃস্ব, হতদরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীরা সবচাইতে বেশি সহযোগিতা বঞ্চিত হচ্ছে তা নিশ্চিত। ঈদুল আজহার আগে ও পরে কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রির টাকার অংশ প্রার্থী ভিক্ষুকদের আনাগোনা ছিল লক্ষণীয়। যা এখন আর দেখা যায়না। পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের কারসাজিতে সম্পৃক্তদের সুস্থ মানবিকতা জাগ্রত হোক, পাশাপাশি নিরীহ, নিঃস্ব, হতদরিদ্র, এতিম ও ভিক্ষুকদের অধিকার পুণরায় প্রতিষ্ঠিত হোক এই কামনা করছেন সচেতন মহল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *