কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা !
গত দুই মাস ধরে বেড়েই চলেছে কাঁচামরিচের দাম । রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। কাঁচামরিচের এমন চড়া দামের সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শাক। বাজার কোনো শাকের আঁটি এখন ২০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। এর সঙ্গে সবজির চড়া দাম তো আছেই। একমাত্র কচু ছাড়া কোনো সবজির কেজি ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। সবজির দামের সাথে এবার বাড়ছে মোটা চালের দাম। প্রতি কেজি ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে মাছের দামও বেড়েছে।
সবজির দামের বিষয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কিছুটা বেড়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। আর আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের শাক।
কাঁচা মরিচের ঝাঁজ না কমলেও নতুন করে দাম বেড়েছে ধনিয়াপাতার। এদিকে সবজির পাশাপাশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। পাইকারি বাজারে দাম না বাড়লেও খুচরায় এক থেকে দুই টাকা বেড়েছে মোটা চালের দাম। অন্যদিকে পেঁয়াজ-রসুনের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে আদার দাম।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে বর্তমানে প্রতিকেজি হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর (আমদানি) ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, উস্তা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঝিঙা-চিচিঙা-ধন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর ছড়া ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, টমেটো ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছাড়া ১০ টাকা বেড়ে প্রতিহালি কাঁচাকলা ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে ও আমদানি করা কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। আর কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ধনিয়া পাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।
চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাক। এসব বাজারে প্রতি আঁটি (মোড়া) লাল শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, মূলা ও কলমি শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ ও কুমড়া শাক ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, ডাটা শাক ২৫ টাকা।
আগের দাম রয়েছে পেয়াজ ও রসুনের বাজারে। তবে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে আদা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে আদার। এসব বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে (মানভেদে) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। দাম বেড়ে প্রতিকেজি আদা বিক্রি হচ্ছে (মানভেদে) ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিদরে।
বাজারে আগের দামে বিক্রি হচ্ছে ডাল ও ভোজ্য তেল। তবে বেড়েছে মোটা চালের দাম। বর্তমানে প্রতিকেজি মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা কেজি, মিনিকেট পুরান ৫৫ টাকা, বাসমতী ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, আতোপ চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, প্রতিকেজি পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজিদরে।
কেজিতে দুই টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতিকেজি গুটি চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, পায়জাম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা, আঠাশ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজিদরে, এক সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজিদরে। প্রতিকেজি ডাবলী ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা, অ্যাংকার ৫০ টাকা, প্রতিকেজি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, মসুর (মোটা) ৮০ টাকা কেজি। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা লিটার, খোলা (সাদা) সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা লিটার।
বর্তমানে প্রতিকেজি বয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজিদরে, লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজিদরে, সোনালী মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজিদরে। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি। ছোট সাইজের রোস্টের মুরগি প্রতি চার পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি গরু গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা, খাসির গোশত ৭৮০ টাকা আর বকরির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকায়। তবে কিছুটা কমে এসব বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালী মুরগির ডিমি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ও হাঁসের ডিম ১৩০ টাকায়।
এদিকে দাম বেড়েছে অধিকাংশ মাছের। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে এসব বাজারে প্রতিকেজি কাঁচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, মলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, দেশি টেংরা ৫০০ টাকা, নদীর টেংরা (বড়) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, দেশি শিং মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কৈ মাছ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২০০ থেকে ৩২০ টাকা, মৃগেল ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সাদা মাছের দাম বাড়লেও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। এসব বাজারে প্রতি সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, এককেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা, প্রতি ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ টাকা, প্রতি ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ও ছোট ইলিশ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।





