এবার পদ্মাসেতুর স্প্যানে ফেরির ধাক্কা !
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায় পদ্মা সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিলারের ওপর অবস্থিত স্প্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ ফেরির। এতে ফেরির মাস্তুল ভেঙে গেছে। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৭টায় এই ঘটনা ঘটে।
শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “সকাল ৭টার দিকে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর পদ্মা সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিলারের মধ্যদিয়ে ডকইয়ার্ড থেকে পাটুরিয়া ঘাটে যাচ্ছিল। সে সময় স্প্যানের সঙ্গে ফেরির মাস্তুলের ধাক্কা লেগেছে। সেতুর স্প্যান পানি থেকে অনেক উঁচুতে। এরপরও কিভাবে লাগল বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়।”
পদ্মাসেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (সেতু) দেওয়ান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বলেন, “ফেরির মাস্তুল সেতুর স্প্যানে আঘাত করেছে। ভিডিওতে আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। তবে ফেরির লোকজন বিষয়টা স্বীকার করছে না।”
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য দেয়নি বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির কন্ট্রোল রুমে ফোন করলে জানানো হয়, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। গণমাধ্যমের খবরের কথা উল্লেখ করা হলে তারা বিষয়টি ‘দেখছেন’, পরে ‘জানানো হবে’।
নৌ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর স্প্যানে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের মাস্তুলের ধাক্কা লেগেছে- গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্প, বিআইডব্লিউটিসি ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দল।
এর আগে, গত ২০ জুলাই পদ্মাসেতুর ১৬ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রো রো ফেরি শাহ মখদুদের তলা ছিদ্র হয়ে যায়। এর তিন দিনের মাথায় ২৩ জুলাই মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি শাহজালাল পদ্মাসেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে তীব্র জোরে ধাক্কা দেয়। ওই ঘটনায় ফেরিতে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। এরপর ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আবার ধাক্কা লাগে ১০ নম্বর পিলারের। এতে পিলারের পানি লাগোয়া অংশে (পাইল ক্যাপ) পলেস্তার উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়। পরে গত ১০ আগস্ট ওই স্থান দিয়ে ভারী যানবাহন নিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপরও চারদিন বাদে ১৩ আগস্ট আবার ধাক্কা লাগে ফেরি কাকলির। এসব ঘটনায় থানায় জিডি, তদন্ত কমিটি গঠন ও ফেরি চালকদের সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।





