আবারো হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেওয়া হলেও পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কয়েকদিন সময় লাগতে পারে, তাই হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতালটির পরিচালক ডা. আরিফ মাহমুদও বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ভর্তির বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের ১০বি ওয়ার্ডের ১০২০৪ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয় বলে জানান শায়রুল কবীর।
এদিন বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়া বাসা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে বের হন। বিকাল ৪টার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে চিকিৎসক হাসপাতালে আসেন দলের সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুনসহ অনেকে।
বেগম জিয়ার আসার খবরে দুপুর থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের চারপাশে জড়ো হয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ভিড় সামলাতে হাসপাতালের ভেতর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
বিএনপি প্রধানের চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তিনি গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। থেমে থেমে জ্বরও আসছে বেশ কিছু দিন। শারীরিকভাবে সব অসুখই ঘুরে-ফিরে আসছে খালেদা জিয়ার। এছাড়া পুরনো অসুখগুলোও সেরে উঠেনি। এ কারণেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে এভারকেয়ারে এসেছেন খালেদা জিয়া।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সেখানে ৫৪ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৯ জুন রাতে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন খালেদা জিয়া।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর প্রথমে পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগার ও পরে কারাবন্দি অবস্থায় বিএসএমইউর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে তার ছয় মাসের সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়। এরপর আরও তিন দফায় তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ায় সরকার।





