#দেশের খবর

অসহনীয় লোডশেডিং !

কয়েকদিন ধরেই বেড়ে চলেছে গরম। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিংও। নিয়ম করে সকাল ও দুপুরে একঘণ্টা, বিকেলে ৩০ মিনিট, সন্ধ্যায় আবার ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকছে না। এরপর রাত ১২টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর রাত আড়াইটায় আরও একবার শুরু হচ্ছে লোডশেডিং। গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক এলাকায় দিনের বেলা বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পর চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ গ্রামের মানুষ।

এদিকে, ঢাকার দুই বিতরণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) জানায়, তারা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিচ্ছে। কোনও লোডশেডিং হচ্ছে না। তবে কোনও কোনও এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে লাইন ও ট্রান্সফরমার সমস্যার কারণে।

অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কথা বলতে গিয়ে শান্তিনগরের বাসিন্দা কথা ইসলাম বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একবার, রাত ১২টার দিকে একবার, এরপর রাত আড়াইটার দিকে আবারও বিদ্যুৎ চলে যায়।’ একই অভিযোগ করেন আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ। তিনি বলেন, ‘রাত তিনটার দিকে একবার আবার ভোর ৫টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়।’ রায়েরবাজার ও মোহম্মদপুর এলাকা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা জাহিদুল হক বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। আসছে ঘণ্টাখানেক পর। মঙ্গলবার রাতে ১১টা ২০মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া পর এসেছে রাত ২টার দিকে। এ সময় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বনশ্রী কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বরে অন্তত ৫০বার ফোন করলেও কেউ রিসিভ করেনি। প্রতিদিন একই সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে আবার আসাকে লোডশেডিং ছাড়া আর কী বলা যায়?’
প্রসঙ্গত, সারাদেশের ১২৩ বিদ্যুৎকেন্দ্রর বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ হাজার ৪৪৫ মেগাওয়াট। এরসঙ্গে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে গ্রিডে সংযুক্ত হতে পারে এমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৭ হাজার ৬০৫ মেগাওয়াট।

গত মঙ্গলবার দিনের বেলা প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩৬৩ মেগাওয়াট। বুধবার দিনের বেলা সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয় ৯ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি রাখা হয় ১১ হাজার ৩০৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র। একইভাবে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদা ১১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের জন্য ১২ হাজার ৪৫৯ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে প্রস্তুত রাখা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *