#দেশের খবর

১১ হাজার কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন পেল একনেকে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১১ হাজার ২১১ কোটি টাকা ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটির চতুর্থ সংশোধনের মাধ্যমে ৬ হাজার ৩১৬ কোটি ব্যয় বৃদ্ধি করে ১১ হাজার ১৪২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

গতকাল একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

অনুমোদিত প্রকল্প: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটির মাধ্যমে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯২টি ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবার ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের পাকা ঘর পাবে। নতুন করে আড়াই লাখ মানুষ ঘর পাবে। এজন্য সরকার আরো ৬ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা ব্যয় করবে। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প প্লটের সংখ্যা ২৫০টি বাড়িয়ে ৫৩৯টি করবে সরকার। প্রকল্পটি সরকার প্রথমবারের মতো সংশোধন করতে যাচ্ছে। ৫৫২ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল মিরসরাই প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্পটির মাধ্যমে এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন রাস্তা উন্নয়নের ফলে যানজট নিরসন ও নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের সুযোগ বৃদ্ধিকরণ এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৭৬৯ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন, এয়ারপোর্ট রোডে ৬০০ মিটার ওভারপাস নির্মাণ, ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ, ১৪টি ব্রিজ, ২২টি কালভার্ট, ১০টি গোলচত্বর নির্মাণ করা হবে।

১৩৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য লজিস্টিকস ও ফ্লিট মেইনটেন্যান্স ফ্যাসিলিটিস গড়ে তোলা (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিজস্ব ফ্লিট মেইনটেন্যান্স ও লজিস্টিকস ক্যাপাবিলিটি গড়ে তোলা। ৭২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ককে জাতীয় মহাসড়ক মানে ৪-লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কেন্দ্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন (প্রথম পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে ৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন’ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মোবাইল অ্যাপস ও গেম উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা হবে।

৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বরগুনা জেলার অধীন পোল্ডার ৪৩/১ ও ৪৪বি পুনর্বাসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পায়রা নদীর ভাঙন থেকে প্রতিরক্ষা প্রকল্প এলাকা হচ্ছে বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলী উপজেলা। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো খালখনন, রেগুলেটর মেরামত/পুনর্নির্মাণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং বাঁধের ঢাল সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ ও প্রকল্প এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ। লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পায়রা নদীর ভাঙন হতে স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো রক্ষা করা।

১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর ভাঙন রোধ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের মাধ্যমে বিজেআরআই’র গবেষণাগার, স্টেশন, আঞ্চলিক কেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও গবেষণার জন্য উপযোগী স্থান নির্মাণ করা হবে।

তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *