#দেশের খবর

সৌর বিদ্যুতে একর প্রতি ২৫ টাকায় সেচ সুবিধা।

সৌরবিদ্যুচ্চালিত পাম্পের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে বরিশালের ৮৭৫ একর জমি। বরিশাল বিভাগ ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি পাম্পের মাধ্যমে এ সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এসব পাম্প স্থাপন করেছে। এরই মধ্যে ওই জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করে সুফল পাচ্ছেন কৃষক। কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যয় হ্রাসসহ সেচ কার্যক্রমে ডিজেল কিংবা বিদ্যুৎ বিল থেকেও রেহাই পাচ্ছেন চাষীরা। প্রতি একরে মাত্র ২৫ টাকায় সেচ সুবিধা মিলছে বলে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়।

বিএডিসির বরিশাল অফিস সূত্র জানায়, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এনে ফসল উৎপাদনের জন্য ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় সৌরবিদ্যুচ্চালিত ৩৫টি পাম্প স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার, যা চলতি বছর স্থাপন সম্পন্ন হয়। এবারই প্রথম এ সেচ পাম্প ব্যবহার করে প্রকল্পভুক্ত কৃষক ইরি ও বোরো ধান চাষ করেছেন।

উপকারভোগী কৃষক জানান, সমবায় ভিত্তিতে ২৫ একর জমি নিয়ে কৃষকদের মাঝে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরে একটি করে সৌরবিদ্যুচ্চালিত পাম্প ও ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ১০টি স্লাবের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা তৈরি করে দেয় বিএডিসি। প্রত্যেক সমিতির কাছ থেকে পাম্পের জন্য এককালীন ৩০ হাজার টাকা ও বছরে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে সরকারের কোষাগারে। আর এ প্রকল্পের একটি পাম্প ও ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করতে সরকারের খরচ হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৪ টাকা। এছাড়া ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূগর্ভস্থ পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে সেচের পানির অপচয় হচ্ছে না। ফলে কৃষকদের পাম্প পরিচালনা ও ফসল উৎপাদন খরচ কমে আসছে।

বিএডিসির প্রকৌশলী গোলাম রব্বানী বলেন, স্বল্প খরচে ফসল উৎপাদন ও সেচসুবিধার পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে পারছেন কৃষক। এ প্রকল্পের আওতায় বিভাগের বরিশাল সদর উপজেলায় একটি, বানারীপাড়ায় দুটি, উজিরপুরে দুটি, বাবুগঞ্জে দুটি, গৌরনদীতে একটি ও আগৈলঝাড়ায় একটি। ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে দুটি, ঝালকাঠি সদর উপজেলায় একটি ও রাজাপুর উপজেলায় একটি। পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে তিনটি, পিরোজপুর সদরে একটি, মঠবাড়িয়ায় একটি ও নেছারাবাদে একটি। ভোলা সদরে একটি, তজুমদ্দিনে একটি ও চরফ্যাশনে চারটি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চারটি ও গলাচিপায় দুটি। বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় একটি, বরগুনা সদরে একটি ও আমতলীতে দুটিসহ ৩৫টি পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এতে বরিশালের নদী ও খালের পানি ব্যবহার করে ৮৭৫ একর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। ফলে ফসল উৎপাদন খরচ কমবে। সূত্র আরো জানায়, ৪২টি সোলার প্যানেল দিয়ে সারা দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে সেচ পাম্পে। তবে যতক্ষণ সূর্যের আলো থাকবে ততক্ষণ সেচ পাম্প চলবে। তবে পাম্প হাউজটিতে আলোর চাহিদা পূরণে একটি সৌরচালিত ব্যাটারি রয়েছে। প্রতিটি পাম্প ৭ হাজার ২০০ ওয়াট বিদ্যুৎ ধারণ করতে পারে এবং সেচের মোটর ৩ দশমিক ৭৫ কিলোওয়াটের।

ডিজেল ও বিদ্যুচ্চালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যয় হলে প্রতি শতাংশে ডিজেলে ১৭০ টাকা এবং বিদ্যুতে ১৫০ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এর বিপরীতে সৌরচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিলে ব্যয় হয় ১ টাকারও কম। ইরি, বোরো ও রবি শস্যের জন্য সেচের প্রয়োজন বেশি হয় বলে সূত্রে জানা গেছে।

বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়ার খয়েরদিয়া এলাকার সেচ কমিটির সভাপতি কৃষক নুরুল ইসলাম গাজী বলেন, সরকারের এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা চাষাবাদ করে সুফল পাচ্ছি। কারণ এতে সেচ খরচ নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, ডিজেল বা কোরোসিনচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার করলে যে খরচ হতো তার তুলনায় এটি সামান্যই। কারণ এ সেচ সুবিধার জন্য বছরে মাত্র ১৫ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে।

বিএডিসির বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুচ্চচালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিলে একরে মাত্র ২৫ টাকা খরচ হয়, যেখানে ডিজেলে খরচ হতো ৪ হাজার টাকা। তার মতে, খালের পানিতে পলি মাটি থাকে তাই এ ব্যবস্থা প্রয়োগে সেচ দিলে ফসলের উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়বে।

তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *