সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রস্তুত রয়েছে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স, র্যাবের ডগ স্কোয়াড। ভিআইপিদের নিরাপত্তায় আকাশে টহল দিবে হেলিকপ্টার। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আজ বুধবার থেকে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পাঁচটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান অংশ নেবেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি রয়েছেন আরও পাঁচশত।
দশ দিনব্যাপী এ বিশাল আয়োজনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের নিরাপত্তায় ঢাকায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা দফতরের প্রধানরা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে ইতিমধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করে নিরাপত্তা ছক তৈরী করেছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মঙ্গলবার রাত থেকে মাঠে নেমে পড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করে যানকাহন তল্লাশি করবে পুলিশ-র্যাব। ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত তারা রাজধানীকে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রাখবে।
রাজধানীতে থাকবে র্যাবের বোম্ব স্কোয়াড, পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, স্পেশাল ফোর্সের টিম সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষ বিভিন্ন স্থানে সিসি টিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে র্যাবের নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের সদরদপ্তর থেকে মনিটরিং করবে র্যাব।
অনুষ্ঠানে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাঘাত ঘটাতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী কোনো স্লোগন দিলে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিবে। নগরবাসীকে এ সময় অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যেতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিব দলগুলোকে সবাসমাবেশ না করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে আগেই বলে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে পাঁচ দিন বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে সীমিত আকারে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থাপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এই পাঁচ দিন দর্শকরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। প্যারেড গ্রাউন্ডের আয়োজনে ১৭ মার্চ সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। এরপর ১৯ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চ নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী, ২৪ মার্চ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যোগ দেবেন। ১৭ থেকে ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের কেন্দ্রীয় ওই আয়োজনের পাঁচ দিন তারা যোগ দেবেন।





