#দেশের খবর

লকডাউন বাড়লো ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে দেশে চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরে প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ রোধকল্পে সার্বিক কার‌্যাবলী/চলাচলে বিধিনিষেধের বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সে প্রজ্ঞাপনে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সেটি আরও এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ২২ এপ্রিল থেকে আরও সাত দিন।’

সুরথ কুমার সরকার বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ইমার্জেন্সি সভা হয়েছে। সভাতে ক্যাবিনেট সচিব সভাপতিত্ব করেন। ওখানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সচিবরা ছিলেন। এছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও ছিলেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে আগামী আরও এক সপ্তাহ এটি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘১২ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনে যে বিষয়গুলো ছিল, ওটা আরও এক সপ্তাহ বলবৎ থাকবে। তবে প্রজ্ঞাপনটি এখনো জারি হয়নি। হয়তো আজকে না হলে কালকে জারি করা হবে।’ এর আগে রোববার রাতে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৩১তম সভায় বিধিনিষেধ বাড়ানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। ধীরে ধীরে এ বিধিনিষেধ শেষ করার পূর্ব পরিকল্পনা তৈরি রাখারও পরামর্শ দিয়েছে ওই কমিটি।

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় প্রথম দফায় গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়, যেটি পরে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে ‘সার্বাত্মক বিধিনিষেধ’ শুরু হয়। এটি শেষ হবে ২১ এপ্রিল মধ্যরাতে।

লকডাউনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শক্রমে লকডাউন আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটি বলছে, ভাইরাসের যে চেইনটি কাজ করছে, লকডাউন অব্যাহত রাখা গেলে সেটি এই মাসের শেষে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতিতে আছে। কিন্তু চলমান লকডাউনের কারণে আমরা ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছি। আমরা মনে করছি, এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে সংক্রমণের নিম্নগতি নিশ্চিত করা যাবে। এর আগে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউনে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায় না। দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি কমিটি উপলব্ধি করে। তবে, বেসরকারি দফতর, ব্যাংক খোলা রাখা, ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল, ইফতার বাজারে অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভিড় লকডাউনের সাফল্যকে অনিশ্চিত করে।

লকডাউনের সময় স্বাস্থ্যসেবা, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। খোলা রাখা যাবে এমন জরুরি সেবার তালিকা প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কমিটি। এছাড়া কাঁচাবাজার আবারও উন্মুক্ত স্থানে বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় কমিটি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *