মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা না দেয়ায় মাকে বের করে দিয়েছে ছেলে !
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ঘোলদারপাড়া গ্রামে এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা বাবার সম্মানী ভাতার পুরো টাকা হস্তগত করতে না পেরে নিজ মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে আতাউর রহমান ও পুত্রবধূ লিপি বেগম।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসাররের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেন। একমাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির কোন সুরাহা না হওয়ায় তিনি মেয়ের বাড়িতে আশ্রিত অবস্থায় আছেন।
মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী রাবেয়া বেওয়া জানান, দুই বছর আগে তার স্বামী গোলজার হোসেন মারাজান । চার সন্তানকে স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বণ্টন করে দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু ছেলে আতাউর রহমান ও পুত্রবধূ লিপি বেগম পুরো টাকা দাবি করে বসেন। দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর চলে মানসিক নির্যাতন।
এর জের ধরেই গত ৩০ জানুয়ারী আতাউর রহমান ও তার স্ত্রী লিপি বেগম ঝগড়ার এক পর্যায়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে রাবেয়া বেওয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী গুনাইগাছ ইউনিয়নের কৃষ্ণ মোহন গ্রামে মেয়ে গোলাপী বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
গত একমাস ধরে অপেক্ষা করেও সন্তানদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ পত্রে তিনি জীবনের শেষ দিনগুলো স্বামীর ভিটায় কাটানোর ইচ্ছে পোষণ করেন। সেই সঙ্গে ছেলে ও পুত্রবধূর নির্মম আচরণের বিচার চান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলে আতাউর রহমান বলেন, আমাকে বঞ্চিত করে টাকা-পয়সা, জমি-জমা সব তিন সন্তানকে ভাগ করে দেন মা। আমি প্রতিবাদ করায় তিনি রাগ করে বোনের বাড়িতে চলে গেছেন। ঘরের জিনিসপত্র যাতে চুরি না হয় এজন্য মায়ের ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।
বিষয়টি নিয়ে হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মাস্টার বলেন, ইউএনওর কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। বিট পুলিশিং অফিসারসহ ওই মাকে নিয়ে এসে আমরা সালিশ বৈঠক করব। আশা করছি বিধবা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু বুঝিয়ে দিতে পারব।





