দেশে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে চলমান লকডাউন।
স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজন অনুযায়ী লকডাউন কার্যকরের ক্ষমতা দিয়ে চলাচলে বিধি-নিষেধের মেয়াদ আরও একমাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ নিয়ে বাংলাদেশে দশমবারের মতো বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হলো।
আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে বিধিনিষেধ। এই সময়ে সব সরকারি, আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড ১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বের সব বিধিনিষেধ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সূত্রস্থ স্মারকসমূহের নির্দেশনার অনুবৃত্তিকমে নিম্নোক্ত শর্তাবলী সংযুক্ত করে এ বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা ১৬ জুন ২০২১ তারিখ থেকে ১৫ জুলাই ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। করোনার উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন জেলাসমূহের জেলা প্রশাসকরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধ বিধি মোতাবেক লকডাউনসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
সব সরকারি, আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করে খোলা থাকবে। সব পর্যটন কেন্দ্র রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে; জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান- ওয়ালিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে; খাবারের দোকান ও হোটেল- রেস্তোরাঁসমূহ সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (টেকঅ্যাওয়ে/অনলাইন) করতে পারবে এবং আসন সংখ্যার অর্ধেক সেবাগ্রহীতাকে সেবা দিতে পারবে। সব ধরনের গণপরিবহন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় এ বছরের ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথমবার বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। সেটি দুদিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এই বিধিনিষেধ খুব একটা কাজে না আসায় ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় দুই সপ্তাহের ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ। এরপর থেকে বিভিন্ন শর্ত আরোপ ও শিথিল করে কখনো সাত দিন কখনো ১০ দিন করে এ বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়াতে থাকে সরকার। সবশেষ বিধিনিষেধ ছিল ৬ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত। বিধিনিষেধ বাড়ানো হলো ১৫ জুলাই পর্যন্ত।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ জনের। নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৫৬ জন। মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৭ জনে।
এদিকে অফিস আদালত খুলে দিয়ে এবং গণপরিবহন চালু রেখে বিধি নিষেধ আরোপ করায় জনভোগান্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সরকারি আধা সরকারি অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে অফিসগামীরা চরম সংকটের সম্মুখীন হবেন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিধি নিষেধের কারণে সৃষ্টি হয় গণপরিবহন সংকট। মানুষ গাদাগাদি করে গণপরিবহণে ওঠেন। একারণে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া বেশি মানুষ পরিবহনে ওঠলেও ভাড়া দিতে হয় দেড়গুণ বেশি।
এছাড়া লকডাউনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থীকে অটোপাস দেয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও মনে করেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। যেসব শিক্ষার্থী ২০২০ সালে অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন তাদের সবাইকে শর্তসাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমােশন দিয়ে ক্লাস করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন সর্বমোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৬ জন আর অনিয়মিত শিক্ষার্থী ১৯ হাজার ৫০ জন। এরা সবাই অর্থাৎ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী অটোপাস পেয়ে ২য় বর্ষে উত্তীর্ণ হচ্ছেন।
এর বাইরে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য আবেদন করা মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫৯ জন। তাদের অটোপাস প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। পরে যখন আবার প্রথম বর্ষের লিখিত পরীক্ষা হবে তখন তারা মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেবেন। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিল মোট ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষার্থী।
প্রমোশন পাওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে- পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব শিক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই ১ম বর্ষের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ যদি এই পরীক্ষায় অংশ না নেয় বা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নট প্রমোটেড’ হয় সেক্ষেত্রে তার শর্তসাপেক্ষে দেয়া প্রমোশন বাতিল বলে গণ্য হবে।





