#দেশের খবর

দেশে লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম !

দেশে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি বাজারের উর্ধ্বগতিকে আরও উসকে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। আলু, তেল, চাল, চিনি, পেঁয়াজসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভাত-আর ভর্তা খেতেই মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি। প্রশ্ন হচ্ছে আর কত উদ্যোগ নিলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

জানা গেছে, বিশ্ব বাজারে এ বছর ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বলানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার। এ দাম দিন দিন বাড়ছেই। এ দাম ৭৫ ডলারে দাঁড়াতে পারে কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ত্রৈ-মাসিক ভিত্তিতে সংস্থাটি এ পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দাম বাড়ছে দেশের বাজারেও। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে নাভিশ্বাস উঠছে নিম্নআয়ের মানুষের। দফায় দফায় বাড়ছে চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজের দাম। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে অনেকের মুখে মাছ- গোস্ত জুটছে না দিনের পর দিন। দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দু’মুঠো ভর্তা-ভাত জোটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। বাজার দর নিয়ে দুশ্চিন্তা সীমিত আয়ের মানুষের।

জানা গেছে, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিলেও তাতে তেমন কাজে আসেনি। উল্টো দাম আরও বাড়ছেই। দাম বৃদ্ধির তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো আলুর দাম। জনগণ ভাবছে এর পর কোন পণ্যের দাম বাড়বে। মানুষ এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে।

আলুর এ বাড়তি দাম দরিদ্র মানুষের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষেরা বলছেন, মাছ- গোস্ত ও সবজির যে দাম তাতে বেশিরভাগ সময় ভর্তা-ভাত সাথে ডাল খেয়েই তাদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। হঠাৎ আলুর দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। মঙ্গলবার সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৭ টাকায়, যা দুদিন আগেও ছিল ১৮-২০ টাকা। আলুর দাম বাড়ার বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, গত রোববারও এক কেজি আলু ২০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু পাইকারিতে দাম বাড়ায় এখন ২৫ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন কোল্ড স্টোরেজে আলুর মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে তাই দাম বাড়ছে। সামনে আলুর দাম আরও বাড়তে পারে।

কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী সাইদুর বলেন, আলুর মজুত শেষের পথে তাই মজুত করা আলুর দাম বেড়েছে। তবে এখন বাজারে নতুন আলু আসবে। ইতোমধ্যে কিছু নতুন আলু এসেছে। এখন যে নতুন আলু আসছে তার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। সামনে নতুন আলুর সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।

দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ভোক্তারা বলেন, সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার না করার কারণেই কোন যুক্তি ছাড়াই পণ্যের দাম বাড়ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ব্যবসায়ীরা চাইলেই দাম বাড়তে পারে। সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির অভিযোগে সারা দেশে এখন পর্যন্ত কাউকে সাজা দেয়া হয়নি। আর এ কারণেই একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ছে।

যে হারে জালানি তেলের দাম বাড়ছে তাতে পণ্যের পরিবহন খরচ আরও বাড়বে। এতে করে সব ধরনের পণ্যের দাম আরও বাড়বে। এতে করে সাধারণ মানুষ ক্রয় ক্ষমতা হারাচ্ছে। সরকার যদি এখনই উদ্যোগ নিতে না পারে তাহলে বড় ধরনের খাদ্য সংকটে পড়তে পারে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ।

রিকশাচালক সামাদ বলেন, বাড়তি দামের কারণে গরু ও ছাগলের গোস্ত খাওয়া অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। মাসে দু-একদিন ব্রয়লার মুরগি খেতাম, তাও বন্ধ। বেশিরভাগ সময় আলু ভর্তা আর ডাল দিয়ে ভাত খাই। এখন সে পথও বন্ধ হবে মনে হচ্ছে। আলুর দাম বাড়ছে। এ ঊর্ধ্বমূল্য কোথায় গিয়ে থামবে, বলা মুশকিল।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছেন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগির কেজি ২২০-২৩০ টাকা।

এদিকে আউটলুক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সেক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে। তথ্যসূত্রঃ সংগ্রাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *