ঢাকামুখী মানুষের স্রোত !
কঠোরতার হুঁশিয়ারি দিয়ে শুরু হওয়া লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যেই কলকারখানা খোলার ঘোষণা আসার পর ভোলার ফেরিতে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়।
এমনকি ভিড়ের মধ্যে গাড়ি ওঠারও সুযোগ পাচ্ছে না। শনিবার সকাল থেকে একাধিক ফেরিঘাটে দেখা গেছে এমনই ভিড়।
ভোলার ইলিশা ঘাটের তত্ত্বাবধায়ক পারভেজ খান বলেন, “ঘাটে ফেরি আসলেই যাত্রীরা হুড়মুড় করে উঠে পড়ছে। যাত্রীদের চাপে যানবাহনও নেওয়া যাচ্ছে না।”
একই দৃশ্য দেখা গেছে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাটের ‘কৃষাণি’ ফেরিতে। সাত শতাধিক যাত্রী নিয়ে এসেছে ফেরিটি। এতে একটি গাড়িও দেখা যায়নি। শনিবার (৩১ জুলাই) এ রুটে যাতায়াত করা তিনটি ফেরিতেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। করোনার এ মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধি ভুলে গিয়ে যাত্রীদের এমন চাপে ভাইরাসটির সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
বিকেল ৩টার দিকে মজুচৌধুরীরহাট ফেরিঘাটের প্রান্তিক সহকারী রেজাউল করিম রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভোলা থেকে সিডিউল অনুযায়ী ছেড়ে আসা প্রত্যেকটি ফেরিতেই যাত্রীদের ভিড় ছিল। একটি ফেরিতেও গাড়ি আনা সম্ভব হয়নি। তবে সবাই কারখানার শ্রমিক। শিল্প-কলকারখানা খুলে দেওয়ায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এছাড়া ঈদ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যাত্রীদের এমন চাপ হয়নি।
বর্তমানে ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে তিনটি ফেরি চলাচল করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “চেষ্টা করেও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পারছি না। আমাদের কিছু করার নেই।”
ভোর থেকে ইলিশা ঘাটে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ইলিশা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হন।
ইলিশা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আনিসুর রহমানও বলেন, “লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমরা শতভাগ চেষ্টা করেছি। কিন্তু যাত্রীদের চাপে সম্ভব হয়নি।”
ফেরির যাত্রীরা জানিয়েছেন, তারা ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তাদের অধিকাংশই পোশাকসহ বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেন। তারা সাধারণত লঞ্চে যাতায়াত করেন। এখন লকডাউনে লঞ্চ বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুর হয়ে সড়ক পথে যেকোনোভাবে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।





