#দেশের খবর

চমেকে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাহাদি জে আকিবের জ্ঞান ফিরেছে। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সার্জারির পর তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। পুরো সুস্থ হওয়া সংক্রমণ ও মস্তিষ্কের আচরণের উপর নির্ভর করছে বলে চিকিৎসকরা জানান। তবে কম বয়স ও দ্রুততম সময়ে সার্জারি হওয়ায় তার সুস্থ হওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

সবার কাছে আকিবের বাবার আর্তি, “আমার ছেলেটা নিরীহ। সে যেন সুস্থ হয়ে যায়। সবাই সে দোয়াই করবেন।”

শুক্রবার রাতে কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে মারামারির জের ধরে শনিবার দুপুরে আবার সংঘর্ষ হয়।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে পরিচিত আকিবকে ক্যাম্পাসের অদূরে পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারের সামনে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র, স্ট্যাম্প, রড, ছুরি ও কাঁচের বোতল নিয়ে তার উপর হামলা চালানো হয় বলে তার পক্ষের নেতাকর্মীদের দাবি।

এতে মস্তিস্কে গুরুতর আঘাত পান আকিব। পরে হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে তার অপারেশন করা হয়।

চমেক ছাত্রলীগের বিবদমান অন্য পক্ষটি সাবেক মেয়র নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

ছাত্রলীগের বিরোধী দুই পক্ষকে শনিবার সকালে আলোচনায় ডেকেছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ।

নওফেল অনুসারী ছাত্রলীগের একটি পক্ষের নেতা অভিজিৎ দাশ বলেন, “অধ্যক্ষ মিটিং-এ ডেকেছিলেন। আমরা সেখানে ছিলাম। আকিব ক্লাশ করার জন্য বের হয়। একাডেমিক ভবনের লবিতে পৌঁছালে তাকে একা পেয়ে ধাওয়া দেয়।

“এসময় ক্যাম্পাসের বাইরে পপুলার ডায়গনস্টিকের সামনে নিয়ে তাকে রড, কাঁচের বোতল, ছুরি, ক্ষুর, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়।”

অভিজিৎ অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতাল কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, দালাল ব্যবসা, স্লিপ বাণিজ্য, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটসহ নানা অবৈধ ব্যবসা যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারাই আকিবের উপর হামলা করেছে।

আকিবের মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারকারী চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নোমান খালেদ চৌধুরী জানান, তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। গতকাল অবস্থা ছিল গুরুতর। মাথার ডান দিকে গুরুতর আঘাত পেয়েছে।

“ফলে লিনিয়ার ফ্র্যাকচার অব দ্য বোন, এক্সট্রাডুরাল হিমাটোমা, একিউট সাবডুরাল হিমাটোমা, আন্ডারলাইন ব্রেইন ইনজুরি এন্ড ব্রেইন কনটিউশন, টেম্পোরাল পেরাইটার এবং ফ্রন্টাল ইনজুরি হয়।”

সার্জারির পরে তার মাথার খুলির হাড়ের একটা অংশ খুলে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ব্রেইন সোরেজিং যেহেতু বেশি ছিল তাই আর্টিফিশিয়াল ডুরামেটার দিয়ে ব্রেইনের পর্দা তৈরি করেছি। হাড়টা সেখানে দেওয়া যায়নি। দিলে ব্রেইনের ওপর চাপ তৈরি হবে। সেজন্য সেটা বের করে নিয়ে পেটের চামড়ার নিচে আলাদা একটা কক্ষ তৈরি করেছি। ওখানে হাড়টা রেখেছি। পরে সে সুস্থ হলে দ্বিতীয় অপারেশন করে হাড়টি প্রতিস্থাপন করা হবে।”

ডা. নোমান খালেদ চৌধুরী বলেন, “আকিবের জ্ঞান ফিরেছে। আইসিইউতে যে টিউবের ভিতরে রাখা হয়েছিল, সেটা বের করেছি। বাকিটা অভ্যন্তরীণ রিকভারির বিষয়। সেটা সময়সাপেক্ষ। ইনফেকশন না হওয়া এবং ব্রেইনের বিহেভিয়ারের উপর (যেহেতু বড় আঘাত পেয়েছে) বাকিটা নির্ভর করছে। বয়স কম হওয়ায় এবং দ্রুততম সময়ে অপারেশন হওয়ায় আমি আশাবাদী।”

এদিকে ছেলের আহত হওয়ার খবর পেয়ে কুমিল্লার বুড়িচং থেকে ছোট ভাই ও এক আত্মীয়কে নিয়ে চট্টগ্রামে ছুটে এসেছেন আকিবের বাবা গোলাম ফারুক মজুমদার।

তিনি বলেন, “পুজার সময়েও ছেলেটা বাড়ি গিয়েছিল। তারপর ক্লাস করতে ক্যাম্পাসে আসে। ডাক্তাররা বলেছেন, অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। পুরোপুরি সেন্স আসলে বাকি চিকিৎসা শুরু হবে।”

দুই ভাইয়ের মধ্যে আকিব ছোট জানিয়ে গোলাম ফারুক মজুমদার বলেন, “আমার ছেলেটা নিরীহ। সে এ অবস্থায় পড়বে কখনো ভাবতে পারিনি। সবাই দোয়া করবেন সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়।”

এদিকে আকিবের উপর হামলাকারীদের বিচার দাবিতে রোববার দুপুরে চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। তথ্যসূত্রঃ সংগ্রাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *