#দেশের খবর

গাজীপুরের চাকুরিচ্যূত নিম্নআয়ের মানুষদের নিরব কান্না।

গাজীপুর জেলার নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর দুর্দিন যেন আর শেষই হচ্ছে না। অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটলেও তাদের খোঁজ খবর নেয়ার কেউ নেই। গাজীপুর মহানগরের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলোর দুর্দশা লাঘব করার কেউ নেই । বিশেষ করে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার বাদাম, বাকরাল, আন্দারুল, গুটিয়া,গুশুলিয়া ও দেওড়ার পশ্চিম এলাকা, মেইল গেইট বস্তি এলাকায়, টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার এরশাদ নগর ( বাস্তুহারা), টেকবাড়ি, রেললাইন এলাকার আশেপাশের অঞ্চল, আরিচপুর পশ্চিম উত্তর এলাকা, স্টেশন রোডের বস্তিবাসীরা, গাছা থানার কাথোরা এলাকার তুরাগ নদীর পাড়ের বসবাস কারীর অধিকাংশ জনগণ, গাছা রোডের মনিরের বাড়ির আশেপাশের লোকজন, খাইলকুরের কিছু এলাকা, ভগেরটেক এলাকার বেশির ভাগ লোকজন, পুবাইল থানার প্রায় সব এলাকা, কাশেমপুর কোনাবাড়ি এলাকার বেশির ভাগ লোকজন, জয়দেবপুর এলাকার ধীরাশ্রম ও রেললাইনের আশেপাশের লোকজন খুবই দুঃখ দুর্দশায় দিনাতিপাত করছে। বিশেষ করে ২০১৯ সাল থেকে দেশে চলমান করোনার ধাক্কায় চাকরি চ্যুত শ্রমিকরাই বেশি দুর্দশায় ও অভাব অনটনে রয়েছে।

বেশির ভাগ চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা নীরবে নিভৃতে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করলেও চক্ষু লজ্জায় মুখ খুলে কারো নিকট বলতে পারছেন না। কিন্তু তাদের মুখের চাহনিই বলে দিচ্ছে তারা কতটা অসহায়। এই চাকরি চ্যুত খেটে খাওয়া মানুষ গুলো সাংবাদিক পরিচয় জানার পরও লজ্জায় কথা বলতে রাজি হননি। খর্তুল ব্যাংক পাড়া নিবাসী চাকরি চ্যুত শ্রমিক মোঃ হেমায়েত উদদীন বলেন, চাকরি হারিয়ে কেমন আছি বলবো না, তবে বেঁচে আছি। বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছি। স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছি। বর্তমানে একটি ফার্মাসিতে কাজ শিখতে গিয়ে সংসার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। দত্ত পাড়া নিবাসী মোঃ আমির হোসেন দুলাল বলেন, একটি কারখানার এ পি এম ছিলাম, বর্তমানে চাকরি চ্যুত হয়ে একটি মার্কেটের দারোয়ানের চাকরি করছি। আগে বেতন পেতাম ৬০ হাজার টাকা আর এখন পাই ৯ হাজার টাকা। দেড় বছর বেকার জীবন কাটানোর পর দিশমিশ না পেয়ে পেটের দায়ে বউ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এই চাকরি করছি। ছেলেটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো আর এখন টিউশনি করে বেড়ায়। টিউশনিও ঠিক মতো জুটেনা। মেয়েটার পড়াশোনা বন্ধ। ওনার কথা গুলো শুনে অনেকের চোখ ভিজে যাচ্ছিল।

দিন মজুর রতন ফকির বললেন, আগের মত কাজ কাম নাই। কাম একটা পাইলে শ্রমিক হইয়া যাই বেশি। আমাগো এখন পোশেনা। ভ্যান চালক ফিরোজ আলম জানান, সারাদিন তো দূরের কথা, সপ্তাহেও ঠিক মতো কাম পাইনা। ভাবছি বউ পোলাপান নিয়া গেরামে যামু গিয়া। আবার চিন্তা করি, গাও গেরামে গিয়া কি করুম, কি খামু! চোখে মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। অটো চালক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, তিনি একটি আইসক্রিম কারখানার কারিগর ছিলেন, চাকরি চ্যুত হয়ে এখন অটো চালিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। কোনো সহায়তা পায়নি বলে সকলেই জবাব দিয়েছে। এরকম হাজারো মানুষ পাওয়া যাচ্ছে, যারা সকল যন্ত্রণা সহ্য করে নীরবে নিভৃতে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে দিনাতিপাত করছে কিন্তু কারো নিকট থেকে কোনো সহায়তা পায়নি।

বি এন পির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর মহানগর বি এন পির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, অসহায় দুঃস্থ আর্ত মানুষদের নিয়ে রাজনীতি করা উচিৎ নয়। আমরা দলীয় রাজনীতি করি, ভোটের রাজনীতি করি। এসব বন্ধ করা উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক টঙ্গী পৌর মেয়র এডভোকেট মোঃ আজমত উল্লাহ খান বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর দেশে গরীবের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ আরো ভালো আছে। গাজীপুর মহানগর এলাকায় প্রতি দিন ট্রাক করে নিম্ন আয়ের ও মধ্য বিত্তবান শ্রেণির মানুষ গুলোর মাঝে কম মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। না খেয়ে দিনাতিপাত করছে এমন মানুষের সংখ্যা এখন খুঁজে পাবেন না। আর করোনা তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটা মোকাবিলা করতে সরকার কোনো অবহেলা করেনি। আওয়ামী লীগ নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুষম বণ্টন করে জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে দেশ গঠনে বদ্ধ পরিকর। তথ্যসূত্রঃ সংগ্রাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *