উত্তরাঞ্চলে নতুন করে বন্যা।
উজানের পাহাড়ি ঢলে ও গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। ফলে রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচরে বসবাসরত পরিবারগুলো পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চরে আবাদ করা আমন ধান, পাটসহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এদিকে জুলাইয়ের মতো চলতি আগস্টেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ভারি বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিতে পারে বন্যা।
এ মাসে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ আজিজুর রহমান বলেন, আগস্টে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুদিন বিজলি চমকানোসহ মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় এবং সারাদেশে তিন থেকে চারদিন বিজলি চমকানোসহ হালকা বজ্রঝড় হতে পারে।
নদ-নদীর অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি ভারি বৃষ্টিপাতজনিত কারণে কতিপয় স্থানে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জুলাই মাসের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুলাইয়ে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃষ্টি কম হয়েছে। তবে সিলেট বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি, প্রখর সূর্যকিরণ এবং সর্বোপরি মৌসুমি বায়ু দুর্বল থাকার কারণে গত ৫, ৭ থেকে ২১, ২৩ এবং ২৯ জুলাই রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, সিলেট বিভাগ এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এসময় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাজশাহীতে (১৩ জুলাই) ও সৈয়দপুরে (১৪ জুলাই) রেকর্ড করা হয়। এ মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল বলেও জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। এদিকে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানায়, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার থেকেই ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা কমে আসে। এদিন বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটার পানি রেকর্ড করা হয়, অর্থাৎ বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত নোহালী, কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
লক্ষ্মটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের বেশিরভাগ ওয়ার্ডের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিগত সময় যেসব গ্রামে পানি ঢোকেনি এবার সেসব গ্রামও প্লাবিত হয়েছে। চরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসলি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম বাগেরহাট আশ্রয়ণ কেন্দ্র এলাকার ৪০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার নিম্নঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র : সংগ্রাম।





