#দেশের খবর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দ্বিতীয় টিউবের খননকাজ সম্পন্ন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্পের দ্বিতীয় টিউবের খননকাজ শেষ হয়েছে। মাএ ১০ মাসে এই টিউবর খনন কাজ শেষ হয়েছে। আনোয়ারা প্রান্ত থেকে এই টিউবের খনন কাজ শুরু হয়ে নগরীর পতেংগা এলাকায় এসে শেষ হয়েছে। প্রথম টিউব খননের চেয়ে ২য় টিউব খনন করতে ৭ মাস সময় কম লেগেছে।

টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এখন টিবিএম (টানেল বোরিং মেশিন) ধীরে ধীরে বের করে নিয়ে আসতে হবে। এটি পরিষ্কার করতে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। টিউবের ভেতরে যে অংশের ওপর দিয়ে গাড়ি চলবে, সেখানে স্ল্যাবের কাজ আগামী জানুয়ারিতে শুরু হবে। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকল্প সূএে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারা প্রান্ত থেকে এই খননকাজ শুরু হয়েছিল। ওই সময় ভার্চ্যুয়ালি দ্বিতীয় সুড়ঙ্গের খননকাজের উদ্বোধন করেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে প্রথম টিউবের খননকাজ শেষ হয় গত বছরের ২ আগস্ট। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছিলেন। এ টানেলের নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। এ টানেলটি নির্মাণের ফলে এ নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে সংযুক্ত করবে। যুক্ত হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কও। টানেলের নির্মাণকাজ শেষ হলে ৪ লেন দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সহজ হবে শিল্প নগরী চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া, মিয়ানমার হয়ে প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়াসহ ৭টি লক্ষ্য নিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। এ ছাড়া এই টানেল দিয়ে যান চলাচল শুরু হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী যানবাহনকে আর চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে হবে না। সিটি আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এতে চট্টগ্রাম শহরে যানবাহনের চাপ কমে যাবে।

সূএ আরও জানায়, মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে টানেলের প্রতিটি সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। দুই সুড়ঙ্গে দুটি করে মোট চারটি লেন থাকবে। মূল টানেলের সঙ্গে পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকবে। আর আনোয়ারা প্রান্তে রয়েছে ৭২৭ মিটার দীর্ঘ উড়ালসেতু। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরতায় সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটির প্রশস্ততা ৩৫ ফুট। টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীনের সরকারি পর্যায়ে টানেল নির্মাণে সমঝোতা স্মারক সই হয়। চুক্তি সই হয় ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর। আর চীন সরকার এই টানেল নির্মাণের জন্য মনোনীত করে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেডকে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *