#দেশের খবর

পুলিশের গুলীতে ৫ শ্রমিক নিহত !

চট্টগ্রামের বাশঁখালীর গন্ডমারায় এস আলম গ্রুপের নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছে।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন দাবি আদায়ে বিক্ষোভ থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন- বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের মৃত মাওলানা আবু ছিদ্দিকের পুত্র আহমদ রেজা (৩০), কুমিল্লার চান্দপুর উপজেলার নজরুল ইসলামের পুত্র শুভ (২৬), চুয়াডাঙার জীবন নগর থানার অলি উল্লাহ পুত্র রণি (২৮), কিশোরগঞ্জের মিঠামাইন উপজেলার ফালু মিয়ার পুত্র মাহামুদুল হক রাহাত (৩২), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আদর্শ গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে মো. রায়হান (২৫) ।
এদের মধ্যে গুলীবিদ্ধ ৪ জন বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং একজন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

এ ঘটনায় আহত ১১ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলো- হাবিব উল্লাহ (২১), মো. রাহাত (৩০), মিজান (২২), মো. মুরাদ (২৫), মো. শাকিল (২৩), মো. কামরুল (২৬), মাসুম আহমদ (২৪), আমিনুল হক (২৫), মো. দিদার (২৩), ওমর (২০) ও অভি (২২)। এছাড়া গন্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির তিন সদস্যও আহত হয়েছে। তারা হলো-ইয়াসির (২৪), আব্দুল কবির ও (২৬), আসাদুজ্জামান (২৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে চাকরির সময় সীমা কমানোর দাবিতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের। এরই জের ধরে শ্রমিকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ শ্রমিক সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় গুলীবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় ৫ শ্রমিক। আহত হয় আরও অর্ধ শতাধিক শ্রমিক। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ জনতা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে । পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া জানান, বাঁশখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মো. রায়হান (২৫) মারা যান। তিনি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আদর্শ গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, চারজনকে মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এছাড়া আহত ১২ জনকে আনা হলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।হতাহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ ছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এপ্রিলে একই বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। বাঁশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে এস আলম গ্রুপ।
সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার নিন্দা জ্ঞাপন ও বিচারের দাবি
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলীতে ৫ জন শ্রমিক হত্যা ও হতাহতের ঘটনায় গতকাল শনিবার যৌথ বিবৃতিতে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল নবী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা নিন্দাজ্ঞাপন ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

উলেখ্য, বেশ কিছুদিন যাবত বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসছে। শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে পুলিশ গুলী চালালে গতকাল ৫ জন শ্রমিক নিহত ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় প্রমাণ করে সরকার কতটুক শ্রমিক বান্ধব। যাদের শ্রমের বিনিময়ে দেশ চলছে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও অধিকার পূরণের দাবি জানানো হয় উক্ত বিবৃতিতে। শ্রমিকদের ওপর দমন নিপীড়ন বন্ধ এবং ন্যায্য অধিকার সরকারকেই দিতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শ্রমিকদের এসব হত্যাকাণ্ডকে দাসযুগের সঙ্গে তুলনা করে এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে সুষ্ঠ তদন্ত ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *