দেশজুড়ে চলছে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ।
দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে গতকাল। যা সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানা গেছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। যা সারাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়াও দিনাজপুরের বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড়, যশোর, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা, শ্রীমঙ্গলসহ দেশের আরো কিছু কিছু এলাকার উপর দিয়ে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। শৈত্যপ্রবাহটি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বউত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ায় (পঞ্চগড়) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজশাহীতে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নওগাঁ জেলার বদলগাছিতে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শ্রীমঙ্গলে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং যশোরে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলমান এই শৈত্যপ্রবাহে মানুষের জীবনযাত্রা যেন থমকে দাঁড়িয়েছে।
প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলো চলছে হেড লাইট জ্বালিয়ে। সকলের কার্যসুচিতেও পরিবর্তন এসেছে। তীব্র কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে অসহনীয় ঠান্ডায় কর্মজীবী মানুষও দেরিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনাজপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সকালের পরিবর্তে দুপুর ১২টার পর শহরের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তবে শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকায় কর্মজীবী মানুষকে কাজের অপেক্ষায় সকাল ১০টা থেকেই বসে থাকতে দেখা যায়। একজন কর্মজীবী মানুষ মফিদুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘খুবে ঠান্ডা, তাহো বাড়ি থাকি ভেইরাবা হইছে। কাম না করিলে, না খাই থাকিবা হবি’। শ্রমজীবী মানুষেরাই শুধু শীতকে উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। এদিকে ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বিশেষ করে যারা আলু ও পিঁয়াজ রোপন করেছেন তারা পড়েছেন মহা বিপাকে। শীতে আলুতে লেটব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পিঁয়াজের পাতা তীব্র শীতে কুঁকড়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও চলতি ইরি মৌসুমের ইরি ধানের বীজতলাগুলো ঘন কুয়াশায় হলদে হয়ে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি সুপারি, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে কৃষিবিদ রুহুল আমীন জানান, এমন শীতে লেটব্লাইট রোগ থেকে আলুকে রক্ষা করতে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এতেও শতভাগ ফলন রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কেননা ঘন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা এতোটাই বেশি যে, এখানে কোন পদ্ধতি শতভাগ সফল হবে না।





