ঢাকা মেডিক্যালে বসে প্রশ্নপত্র ফাঁস।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমান প্রান্ত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর ঢামেকের একটি হলে বসে ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রান্তের নেতৃত্বে উত্তরপত্র তৈরি করে চক্রটি। চক্রের আরেক হোতা মাউশির সহকারী পরিচালক চক্র শেখর হালদার মিল্টনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালে তা দুই ধাপে কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের কাছে চলে যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে মাউশির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-কর্মচারী, মেডিক্যাল ছাত্র ও চাকরির পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। আমাদের সময়ের অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে থাকা মাউশি কর্মকর্তা মিল্টন মুখ খুলছেন না বলে জানা গেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে তার সব প্রমাণ হাজির করার পরও তিনি সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে যাচ্ছেন
বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মাউশির অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গত সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে মিল্টনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। রিমান্ড শেষে আজ বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। ওই নিয়োগ পরীক্ষার ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্র সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন মিল্টন। ৩১তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মিল্টন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত মাউশির প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও ৪/৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মিল্টন তাদের নিয়ে একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন।
ঢামেকের ছাত্র প্রান্ত ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সমাধান হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মিল্টনের কাছে পাঠান। মিল্টন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেটি পটুয়াখালীর খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক সাইফুল ইসলামসহ দেশব্যাপী তার চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠান। সাইফুল তা পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রভাষক রাশেদুল ইসলাম রাজু ও একই কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সুমন জমাদ্দারের কাছে পাঠান। এভাবে বিপুলসংখ্যক চাকরি পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নের উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়। জানা গেছে, ঢামেকসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ের কিছু অসাধু শিক্ষার্থী এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত। অল্প সময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা পেয়ে এ ধরনের অসাধু চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে অন্যতম সহযোগী ছিলেন মাউশির উচ্চমান সহকারী আহসানুল হাবিব ও অফিস সহকারী নওশাদুল ইসলাম। তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঢামেক ছাত্র প্রান্ত ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মচারী গোয়েন্দা পুলিশের জালে রয়েছেন। এছাড়া চক্রের অন্যতম সদস্য রাজধানীর বদরুন্নেসা কলেজের ক্যাশিয়ার মকবুল হোসেন ও সরকারি তিতুমীর কলেজের কর্মচারী আব্দুল খালেক আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
ডিবি তেজগাঁও বিভাগের এডিসি শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, মাউশির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ আসামির সঙ্গে মিল্টনের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে মিল্টন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।
গত ১৩ মে রাজধানীর ৬১টি কেন্দ্রে মাউশির অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের নিয়োগ পরীক্ষা হয়। ৫১৩টি পদের জন্য প্রথম ধাপের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় (এমসিকিউ) অংশ নেন ১ লাখ ৮৩ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা চলাকালে ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রশ্নের ৭০টি উত্তর প্রবেশপত্রে লেখা থাকায় সুমন জমাদ্দার নামের এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন ইডেনের প্রধান সহকারী আব্দুল খালেক। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই পরীক্ষা বাতিল করে মাউশি।





