#দেশের খবর

‘জামায়াত-শিবিরকে কোণঠাসা করার পর তারা হেফাজতের ব্যানারে চলে এসেছে’ – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হেফাজত-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের পাশাপাশি ধর্মের নামে সন্ত্রাসের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার থেকে এ দাবি জানানো হয়।

এই ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হেফাজত দাবি করে তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। কিন্তু তারা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। হেফাজতের কার্যক্রম সবগুলো বেআইনী। যেসব মামলা হয়েছে- সেসবের সব আসামীকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া আমরা সম্পন্ন করেছি। জামায়াত-শিবিরকে কোণঠাসা করার পর তারা হেফাজতের ব্যানারে চলে এসেছে। সব জায়গায় তাদের কর্মকাণ্ড জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডকে মনে করিয়ে দেয়।
ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। আলোচক ছিলেন সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী এমপি, মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে জঙ্গীদমনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রদর্শন করেছে যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু জঙ্গীদের রাজনৈতিক দর্শন- ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের ক্ষেত্রে কোনও সমন্বিত উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।

তিনি বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে ধর্মের নামে জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসের একটি রাজনীতি ও দর্শন রয়েছে, বাংলাদেশে যার প্রধান ধারক হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামী, যাদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি এবং সমচরিত্রের দলগুলো। দলের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শুধু কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সন্ত্রাস নির্মূলন সম্ভব নয়।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন, ধর্মের নামে কোনো রাজনীতি চলবে না। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম হতে পারে না। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর পরও রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ রয়ে গেছে। তবুও ২০০৯ সালের জঙ্গীবিরোধী আইনের ধারা অনুযায়ী শুধু জামায়াত নয়, হেফাজতসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং দেশে-বিদেশে তাদের সম্পূর্ণ আর্থিক উৎস বাজেয়াপ্ত করা যায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *