জামাত নেতা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম ৪ দিনের রিমান্ডে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম ও তার বাবুর্চি ইমাম হোসেনকে ভাটারা থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গতকাল শুক্রবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাদের দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস তাদের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফ্রিং করে এ তথ্য জানান শামসুল ইসলামের আইনজীবী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
এ দিকে আদালতে রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিনের শুনানিতে অংশ নিয়ে এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আ ন ম শামসুল ইসলাম সাহেব জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তাকে ৮ তারিখ রাত ১টায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ, নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয় এবং থেরাপি নিতে হয়। তাকে পূর্বের একটি সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি এই মামলার এজাহারভূক্ত আসামী নন। রাজনৈতিক হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। এ মামলায় রিমান্ডে নেয়ার মতো কোন কিছু নেই। আর সন্ত্রাস বিরোধী আইনে যে মামলাটি দেয়া হয়েছে তা আইনগতভাবে চলে না। প্রয়োজনে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়ে রিমান্ড আবেদন বাতিল করার প্রার্থনা জানান তিনি।
শুনানী শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংএ এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, গত আট তারিখ রাত সাড়ে ১২টার সময় সাদা পোশাকধারী পুলিশ শামসুল ইসলাম সাহেবের বাসায় প্রবেশ করেন এবং রাত ১টার সময় তাকে ও তার বাবুর্চিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হয়। আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত পর্যন্ত আদালতে অপেক্ষা করেছি কিন্তু তাদেরকে আনা হয়নি। আজ (শুক্রবার) ৪০ ঘন্টা পর একজন আইন প্রণেতাকে আইন বর্হিভূতভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে অনুমতি ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগতভাবে এ মামলা চলার কোন সুযোগ নেই। তার উপর চরম জুলুম করা হয়েছে। তিনি হার্টের রোগী, তাকে নিয়মিত থেরাপি নিতে হয়। ন্যায় বিচারের জন্য তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আদালতে আসামী পক্ষে শুনানিতে আরো অংশগ্রহণ করেন, এডভোকেট লুৎফর রহমান আজাদ, ড. হেলাল উদ্দিন, আবু বকর সিদ্দিক, রোকন রেজা, রিয়াজুল ইসলাম, আমানুল করিম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর এ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ডে যাওয়া অন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, আব্দুর রব, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত এবং জামায়াতের কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কালাম। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভাটারা থানায় মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় অনেককে।





