#দেশের খবর

এমপিওভুক্তি করা হলো ২ হাজার ৭১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে।

এ বছর নতুন করে ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন।

পরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আনুষ্ঠানিকভাবে এমপিও’র তথ্য প্রকাশ করেন। এ বছর নতুন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় উভয় বিভাগের আওতায় ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করবে সেই ঘোষণা আমি দিচ্ছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি আজকেই এই ঘোষণাটা দিতে পারে, তাহলে দেশের মানুষের খুবই উপকার হবে।

জানা গেছে, ২ হাজার ৫১টি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। আর কারিগরি ও মাদরাসা পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে ৬৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় নতুন ২ হাজার ৫১টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬৬৬টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ১২২টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩৬টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ১০৯টি এবং ডিগ্রি কলেজ ১৮টি।

কারিগরি এবং মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাভুক্ত ৬৬৫টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এসএসসি ভোকেশনাল অথবা দাখিল ভোকেশনাল ৯৭টি, এইচএসসি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ২০০টি, ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার দুটি, দাখিল মাদরাসা ২৬৪টি, আলিম মাদরাসা ৮৫টি, ফাজিল মাদরাসা ৬টি এবং কামিল মাদরাসা ১১টি।

এর আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য প্রাথমিক তালিকা করে এমপিও যাচাই-বাছাই কমিটি। এ তালিকা শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে এই এমপিওভুক্তি চূড়ান্ত হয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে বলা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এখন চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর দুই সপ্তাহ পর সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সংক্রমণ অনেক বেড়েছে। টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু করোনা বাড়লেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া আছে। ১২ বছরের কম বয়সীদের দ্রুত টিকা দিতে পারলে হয়ত সেটির প্রয়োজন হবে না। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছি না। বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, পাঠ্যক্রমে ধর্ম শিক্ষা একটি আবশ্যকীয় বিষয়। কাজেই ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এবং তা বাদ দেওয়া হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আরও বলেন, কিছুদিন আগ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চলছিল যে, আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ধর্ম শিক্ষা সবসময় ছিল, এখনও আছে। না থাকার কোনো কারণ দেখি না। আমাদের শিক্ষায় জ্ঞান-দক্ষতা যেমন থাকবে, পাশাপাশি সঠিক মনোভাব, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা থাকবে। সেই জায়গায় ধর্ম শিক্ষা একটি আবশ্যকীয় বিষয়। তিনি বলেন, আজকে যারা ধর্ম শিক্ষা তুলে ধোয়া তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্য ধর্মকে রক্ষা করা নয়, বরং ধর্মকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করা।

তথ্যসূত্র : সংগ্রাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *