মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন খালেদা জিয়া !
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। তার জন্য গঠিত মেডিকেল টিম বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারবার পরামর্শ দিচ্ছে। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকেও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনসহ বিশিষ্টজনরা বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কিছুতেই সেই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না। বরং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় তথাকথিত আইনের দোহাই দিয়ে বিদেশ প্রেরণে বাধা দিচ্ছে। দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মানবতা দেখিয়ে বাসায় থাকতে দিয়েছি এটাই তো অনেক বড় উদারতা।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কোনও অজুহাত সৃষ্টি করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণে বাধা সৃষ্টি করার সরকারের অপকৌশল বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তারা বলছেন, মানবতা কোন করুণার বিষয় নয়। সরকারকে অবশ্যই মানবীয় কর্তৃত্বের অধীনস্থ থাকতে হবে। প্রতিহিংসা বা নির্মমতা দিয়ে মানবিক সমাজ বিনির্মাণ করা যায় না।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর ৭ নবেম্বর বাসায় ফেরেন, তখন তার শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। ছয় দিন পর আবারও ১৩ নবেম্বর হাসপাতালেই ফিরতে হয় তাকে। বর্তমানে এভার কেয়ারের সিসিউইতে ‘আইসিইউ’র চিকিৎসা চলছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর।
জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই বরং দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক প্যারামিটারগুলো আপডাউন করছে। বেগম জিয়ার ‘মাল্টিফাংশনাল’ রোগ থাকায় হাসপাতাল হিসেবে এভার কেয়ারের সেবা ব্যবস্থাও অনেকটাই সীমিত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে অসুস্থতাগুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ৭ নবেম্বর আবারও হাসপাতালে নেয়া হলেও বড় ধরনের কোনও উন্নতি নেই তার।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত ‘এক্সপার্টরা’ বলছেন, এভার কেয়ার হাসপাতালে মাল্টি ফাংশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় বাইরের হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসক ডাকা হয়। এসব চিকিৎসকরা আগ্রহের সঙ্গে সাড়া দিলেও সামনাসামনি অসুস্থ খালেদা জিয়াকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে নানা দিক থেকে পরিস্থিতির শিকার হন। যে কারণে স্বাস্থ্যগত মতামত দিলেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না তারা। পরিবারের পাশাপাশি দলীয়ভাবে পঞ্চমবারের মতো বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হলেও গতকাল পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনও অগ্রগতি নেই। বরং সরকারের পক্ষ থেকে আইনের দোহাই দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হচ্ছে।
খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) একটি চিকিৎসক বোর্ড গঠন করেছিল। ওই বোর্ডের প্রধান ছিল অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার। তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, উনার বাত, ডায়বেটিস রোগ তো অত্যন্ত পুরনো। তিনি হাইপ্রেশারের রোগী, বয়সও হয়েছে অনেক। তার হাইকেয়ার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দরকার। বোর্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, বেগম জিয়ার বাতের সমস্যাটি অনেক বড়। এক-দেড় বছর আগেও যখন চিকিৎসা করানো হয়, তখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ ক্ষেত্রে উন্নতমানের ড্রাগস দিতে হয়, ভালো কেয়ার লাগে, ভালো সেন্টার লাগে। ভ্যাকসিন দিয়ে এই হাইড্রাগস নিতে হয়। উনার এই রোগটি কখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, আমরা একই মত দিয়েছি সবসময় সময়। আমরা বলেছি, তার ডায়াবেটিস, রিউম্যাটোলজি, হাই প্রেশার সমস্যা রয়েছে। তার রিউম্যাটোলজি অ্যাগ্রিসেভ ফর্মে আছে, এ জন্য অ্যাগ্রেসিভ ট্রিটমেন্ট দরকার। এভার কেয়ারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম খালেদা জিয়ার ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থাপনা করলেও পুরো কার্যক্রম দিনরাত সুপারভাইজ করছেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
সংশ্লিষ্ট একজন জানান, বেগম জিয়ার শরীরে বর্তমানে পেইন কিলার কাজ করছে না। উন্নত চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সিসিইউতেই আইসিইউ’র সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকার চিকিৎসকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের যৌথ মতামতের ভিত্তিতে চিকিৎসা চলছে।





