মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষে ৮৫ সৈন্য নিহত।
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সাগাইঙ অঞ্চলের কাউলিন শহরে জান্তাবিরোধী যোদ্ধাদের সাথে সংঘর্ষে ৮৫ সৈন্য নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।
সাগাইঙ অঞ্চলের কাউলিন শহরের স্থানীয় জান্তাবিরোধী কাউলিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের যোদ্ধাদের সাথে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এই সৈন্যরা নিহত হয়।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, নিহত সৈন্যদের দাহ করার জন্য জান্তাবিরোধী যোদ্ধা ও স্থানীয়রা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতিকে কাউলিনের এক বাসিন্দা জানান, শহরের বিপুল অংশই বর্তমানে জান্তাবিরোধী যোদ্ধাদের অধীন। যোদ্ধারা বর্তমানে রাস্তায় নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছে।
১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাতমাদাও দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। পরে ১ আগস্ট জরুরি অবস্থার মেয়াদ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং লাইং।
গত বছরের নভেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী।
সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া অহিংস বিক্ষোভকে
সামরিক উপায়ে জান্তা সরকার দমন করতে গেলে বিক্ষোভকারীরাও বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র হাতে নেয়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট দেশের সাধারণ মানুষকে সামরিক জান্তার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দেয়।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ ও সশস্ত্র তৎপরতায় সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে মিয়ানমারে এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী ও বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দেশটিতে মানবাধিকার নজরদারি করা সংস্থাগুলো জানায়।
অপরদিকে সামরিক বাহিনী নিহতের এই সংখ্যা অস্বীকার করে আসছে এবং সংঘর্ষে বিপুল সৈন্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।





