#যুক্তরাজ্য

মোটরওয়েতে দুর্ঘটনা কমাতে আসছে গাড়ির গতিরোধক সফটওয়্যার।

ইউরোপে বছরে প্রায় ২৬ হাজার মানুষ সড়ক-দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে থাকেন। এই মৃত্যুর প্রধান কারণ মোটরওয়তে উচ্চগতিতে বেপরোয়া গাড়ি চালানো। প্রতিঘন্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোর আইন ভঙ্গ করে ১০০ মাইলেরও বেশি গতিতে গাড়ি ড্রাইভ করে থাকেন অনেক চালক। আর তাই আগামী বছর থেকে ইউরোপজুড়ে ‘ইন্টেলিজেন্ট স্পীড এসিসটেন্ট’ (আইএসএ) নামক নতুন এক ধরনের গতি নিরোধক সফটওয়ার সিস্টেম চালু হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ইউরোপ থেকে বেরিয়ে এলেও সফটওয়্যারটি ইউকের সকল নতুন গাড়ির জন্য বাধ্যতামুলক হবে। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেইফটি কাউন্সিল-এর এটি গবেষনা থেকে এ তথ্য প্রকাশ করেছে কনপারেসেন ওয়েবসাইট কনফিউড ডটকম।

কিভাবে কাজ করবে আইএসএ? মোটরওয়েতে স্পীড সাইন শনাক্ত করার জন্য আইএসএ একটি ভিডিও অথবা জিপিএস সংযুক্ত সিস্টেম ব্যবহার করবে। গাড়ীর গতি নির্ধারিত সীমার উপরে গেলেই এই সিস্টেমটি ড্রাইভারকে বারবার সতর্ক করবে এবং গাড়ীর গতি না কমালে ‘ইন্টেলিজেন্ট স্পীড এসিসটেন্ট’ গতি কমিয়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যে নিয়ে আসবে। এ সিস্টেমটি গাড়ির ব্রেকিং সিস্টেমের সাথে সম্পৃক্ত নয়। গাড়ীর গতি নির্ধারিত সীমার বাইরে গেলেই আইএসএ সফটওয়ার অনবরত অ্যালার্ম দিতে থাকবে এবং ড্রাইভার যদি ব্রেক না করেন বা গতি না কমান তাহলে গাড়ির ইঞ্জিনের শক্তি কমে যাবে।

আইএসএ কি গাড়ীর গতি সঠিক সীমায় রাখতে পারবে? থ্যাচাম রিসার্চের গবেষণা পরিচালক ম্যথিউ এভারি সকর্ত করেছেন যে, গাড়ীর গতি-সীমা সনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যখন জিপিএস ম্যাপ পুরনো হয়ে যাবে তখন এই সফটওয়ার সিস্টেম স্পীড সাইন অস্পষ্ট বা ভুল পড়তে পারে এবং বাস্তার অস্থায়ী স্পীড লিমিট ও রোড ওয়ার্ক সিস্টেমকে বিভ্রান্তকর তথ্য দিতে পারে। সিস্টেমটি যদি সঠিকভাবে স্পীড সাইন পড়তে না পারে তা হলে উচ্চগতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে জরিমানা চলে আসতে পারে এবং ড্রাইভাররা এ সিস্টেম মানছেনা বলে দায়বদ্ধ হবেন।

তবে ইউরোপিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেইফটি কাউন্সিল বলছে, আইএসএ হচ্ছে উন্নতমানের একটি প্রযুক্তি যার অস্থায়ী স্পীড লিমিট ও ‘ডিজিটাল সাইন’ সনাক্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। আইএসএ প্রযুক্তিতে ‘বিলট-ইন ফাংশন রয়েছে যা পুরো বছরই স্পীড লিমিট ইনফরমেশন আপডেট করতে পারে। সবকিছুর পর গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব চালকের। আইএসএ হচ্ছে চালককে সহযোগিতা করার নিমিত্বে তৈরি একটি সফটওয়্যার মাত্র । সুতরাং চালকই সর্বদা গতি-সীমা মেনে চলার জন্য দায়ী থাকবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *