উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার অবনতির হতে পারে।
উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের মধ্যে প্রধান নদনদীর পানি বেড়েই চলছে। তাই দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। গতকাল রোববার সকালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি নদীর পানি আটটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বৃষ্টিপাত ও নদনদীর অবস্থা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
নদনদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মার পানি বাড়ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, এ ধারা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে জানিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম এবং মধ্যাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ও ধলেশ্বরী নদী এলাসিন পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পাঁচটি নদীর পানি আটটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, ধরলার পানি কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার, মথুরা পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমা পার হয়েছে। সেখানে পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। কামারখালী পয়েন্টে গড়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর রয়েছে।
গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ও সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পদ্মা নদীর পানি বইছে বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।
রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি বিপদ সীমার উপরে
রাজবাড়ী সংবাদদাতা: গত কয়েক দিন ধরে হু হু করে বাড়ছে রাজবাড়ী অংশে পদ্মার পানি। ফলে জেলার পাংশা উপজেলার সেনগ্রাম, সদরের মহেন্দ্রপুর ও গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় সেনগ্রাম পয়েন্টে ৯ সেন্টি মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৭৭ সে মি, মহন্দ্রেপুরে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৪ ও দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৯ সেন্টি মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৩৪ সে মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এতে করে বাঁধের বাইরে থাকা কিছু কিছু স্থান ও চরের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে জেলার বিভিন্নস্থানে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবং নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে পদ্মার পাড়ের মানুষের মধ্যে।
জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক জানান, বন্যার সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।





