যুক্তরাজ্যে এ-লেবেল পরীক্ষার রেজাল্টে প্রাইভেট ও সরকারি স্কুলগুলোর ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট।
যুক্তরাজ্যে এ-লেবেল পরীক্ষার রেজাল্টে প্রাইভেট ও সরকারি স্কুলগুলোর মধ্যকার গ্যাপ বা ব্যবধান আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটা ভারসাম্যপূর্ণ সমাজের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। এদিকে মহামারীর তান্ডবের মধ্যে নতুন ধরনের মূল্যায়নে এবারের এ-লেবেলে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী টপ গ্রেড পেয়েছে, যা ইউনিভার্সিটিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলবে। টপ গ্রেডের এই জয়জয়কারে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীরা।
স্টেট এবং প্রাইভেট স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের এ-লেবেল রেজাল্টের মধ্যকার গ্যাপ বা ব্যবধান নিয়ে উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাক্ষেত্রে অসমান্য অবদান রাখায় নাইটহুড খেতাব লাভকারী, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) এর ভিজিটিং প্রফেসর স্যার কেভান কলিনস্। এক সময় তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চীফ এক্সিকিউটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে এডুকেশন এনডাওমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার ১১ আগষ্ট বিবিসি রেডিও ফোর এর সাথে আলাপকালে স্যার কেভান বলেন, কোভিড মহামারীর কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে অসমতাকে অনেকগুণ বাড়াতে পারে।
এ সপ্তাহে প্রকাশিত এ-লেবেল এর ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে ইংল্যান্ডের ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল হিসেবে পরিচিত প্রাইভেট স্কুলের এ-লেবেল রেজাল্টে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পেয়েছে এ স্টার অথবা এ গ্রেড। পক্ষান্তরে স্টেট স্কুল অর্থাৎ সরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার হচ্ছে ৩৯ শতাংশ।
মঙ্গলবার ১০ আগষ্ট প্রকাশিত রেজাল্টে রেকর্ড সংখ্যক টপ গ্রেড পাওয়ার চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
রেডিও ফোর এর টুডে অনুষ্ঠানে মহামারীর পর শিক্ষায় সামাজিক ব্যবধান বৃদ্ধির পাওয়ার ‘বিশাল ঝুঁকি’ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন স্যার কেভান।
তিনি বলেন, এটি আমাদের সিস্টেমে একটি গভীর সমস্যা এবং এটি ক্রমবর্ধমান বলেই মনে হচ্ছে।
সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে মহমারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া পুষিয়ে দিতে তিনি স্কুল পুণরুদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে যে তহবিল চেয়েছিলেন, তা না পাওয়ায় তিনি গত জুন মাসে পদত্যাগ করেন।
ইংল্যান্ডের এ-লেবেল স্টুডেন্টদের মাত্র ১৬ শতাংশ হচ্ছে প্রাইভেট স্কুলের, যারা মহামারীর আগে উচ্চতর ফলাফল অর্জন করেছিলো, তবে এই ব্যবধান মহামারীতে আরো বিস্তৃত হয়েছে।
অফকাল এর উপাত্ত অনুযায়ি, ২০১৯ সালে এ-লেবেলের ফলাফলে এ স্টার ও এ গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ইন্ডিডেন্ডেন্ট (প্রাইভেট) এবং কমপ্রেহেনসিভ (সরকারি) স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যকার গ্যাপ ছিলো ২৪% পয়েন্ট। চলতি বছর এই গ্যাপ বা ব্যবধান বেড়ে দাড়িয়েছে ৩১ পয়েন্টে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুলস্ কাউন্সিল বলেছে, এই বছরের গ্রেডিং ব্যবস্থাটি নাকি ছিলো লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থাৎ সমতাপূর্ণ এবং ‘স্কুলের ধরন নির্বিশেষে’ ছাত্রদের কাজের মানের প্রমাণ সেখানে থাকতে হবে।
এ প্রসঙ্গে স্যার কেভিন বলেন, শুধু সরকারি ও বেসরকারি স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই যে গ্যাপ ছিলো তা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অংশ যেমন নর্থ অব ইংল্যান্ড অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। লন্ডনে প্রায় ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এ স্টার ও এ গ্রেড পেয়েছে, পক্ষান্তরে নর্থ ইস্টের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই হার হচ্ছে ৩৯ শতাংশ।
তিনি বলেন, আমাদের পুরো সিস্টেম জুড়ে যে বৈষম্য, সেটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
তিনি মনে করেন, মহামারীর পর স্কুলগুলোকে শিক্ষা পুণরুদ্ধারে কীভাবে সাহায্য করা হয়েছে, তা পরবর্তী দশকের জন্য ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
আমাদেরকে অবশ্যই সঠিক কাজটি করতে হবে – বলেন তিনি।
এবারের এ-লেবেল এর রেজাল্টে রেকর্ড সংখ্যক টপ গ্রেড, অর্থাৎ এ স্টার ও এ গ্রেড পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টপ গ্রেড পাওয়ার পেছনে গ্রেডিং সিস্টেমের পরিবর্তনই মূখ্য ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জিসিএসই’তে ব্যবহৃত ৯ থেকে ১ সিস্টেম এবার এ-লেবেল চালু হয়েছে।





