ইসরাইলী বিমান হামলায় শিশুসহ ২৪জন নিহত !
ফিলিস্তিনের গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই হামলায় হামাসের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারের বাস ভবন ও দুটি সীমান্ত সুড়ঙ্গে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। গত সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া আন্তঃসীমান্ত হামলায় ৯ শিশুসহ অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর জানিয়েছে।
রমযান মাসে মধ্য এপ্রিল থেকে জেরুসালেম নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। সমালোচকরা বলছেন, ইসরাইলী বাহিনীর কঠোর হাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা জেরুসালেমে মানুষের সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কারণে।
সপ্তাহজুড়ে পূর্ব জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে সংঘর্ষ হয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে মসজিদটি দখল ইসরাইল। টানা চতুর্থ দিনের মতো ইসরাইলি পুলিশ টিয়ার গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে।
সোমবার সন্ধ্যায় গাজা থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ শুরু করে হামাস। আল-আকসা মসজিদ থেকে ইসরাইলি নিরাপত্তাবাহিনী প্রত্যাহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার রকেট হামলা শুরু করে তারা। এখান থেকেই আন্তঃসীমান্ত হামলার উত্তেজনা শুরু হয়।
ইসরাইলের সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন জঙ্গি। একই সময়ে গাজার থেকে দুই শতাধিক রকেট ছোড়া হয়েছে ইসরাইল লক্ষ্য করে। এতে তাদের ছয়জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। সোমবার ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলী নিরাপত্তাবাহিনীর কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষের পর এই হামলা হলো। মূলত জেরুজালেমে সংঘর্ষ হলেও তা ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম তীরে। এসব সংঘর্ষে সাত শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অতীতের মতো এবারও জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টান- তিন ধর্মালম্বীর কাছেই এটি পবিত্র শহর। এর আগে হামাস ও ইসরাইলের আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষের অবসান হয়েছে কাতার, মিসর বা অন্যদের মধ্যস্থতায়। এবারও সেরকম হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, হামলা কিছু সময়ের জন্য অব্যাহত থাকতে পারে।





