#আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে শুরু।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গতকাল শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ১৭তম বিধানসভার নির্বাচন। এ রাজ্যে ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই চলছে ব্যাপক উত্তেজনা। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুরের দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভার ১৭২ নম্বর ভোট কেন্দ্র। কাঁথি শহরের কাছেই মাজানা মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণও বন্ধ থাকে।

গতকাল শনিবার সকালে ওই কেন্দ্রের ভোটাররা অভিযোগ করেন, তারা তৃণমূলে ভোট দিলেও ভোট পড়েছে বিজেপিতে। এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই গোলমাল শুরু হয়। সাড়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল ভোটগ্রহণ। ঘটনার প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। যদিও কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারে দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ভোট পর্যবেক্ষক। এর পরে বিক্ষোভ সামলে ভোট শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তাদের নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

অভিযোগকারীরা এ সময় ইভিএম পরিবর্তনের দাবি জানান। অনেকে ভোট বাতিলের দাবিও তোলেন। শেষ পর্যন্ত ভিভিপ্যাট পরিবর্তন করে আবার শুরু হয় ভোটগ্রহণ। তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপিশাসিত ভারতের দুই রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

এ পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ৩০টি ও আসামের ৪৭টি আসনের ভোটাররা তাদের রায় জানাবেন।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে শারীরিক দূরত্বের নিয়ম মানাসহ নানান বাধ্যবাধকতা থাকায় এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।

পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তুমুল লড়াই হবে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

শনিবার যে ৩০টি আসনে ভোট চলছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে এ আসনগুলোর ২৬টিতেই তৃণমূল প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিল। অবশ্য তিন বছর পর লোকসভার ভোটে এসব আসনের বেশিরভাগ ভোটই পড়েছিল পদ্মফুলের বাক্সে।

বামফ্রন্ট-কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ‘সংযুক্ত মোর্চা’ পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচনে লড়াইয়ে আছে।

শনিবার পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের সব এবং বাঁকুড়া, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি আসনের মোট ৭৩ লাখেরও বেশি ভোটার প্রায় ১০ হাজার ২০০ বুথে ঢুকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন।

প্রথম দফায় ৩০টি আসনের মধ্যে বিজেপি লড়ছে ২৯টিতে, একটি আসন তারা ছেড়ে দিয়েছে অল ঝাড়খ- স্টুডেন্টস ইউনিয়নকে (এজেএসইউ)। তৃণমূলও লড়ছে ২৯টিতে, এক আসনে স্বতন্ত্র এক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে দলটি। শনিবারের ভোটে কংগ্রেসের প্রার্থী আছে মাত্র ৫টি আসনে, তাদের জোটসঙ্গী বামফ্রন্টই বেশিরভাগ আসনে লড়ছে। ‘সংযুক্ত মোর্চা’ নামের এই জোটে এবার আছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টও (আইএসএফ)।

আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে লড়তে হচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘মহাজোটের’ সঙ্গে। এ রাজ্যে শনিবার যে আসনগুলোতে ভোট হচ্ছে, ২০১৬-র নির্বাচনে তার ৩৫টি বিজেপিই ব্যাগে পুরেছিল।

উত্তরপূর্ব এ রাজ্যের প্রায় ৮১ লাখ ভোটার শনিবার তাদের রায় দেবেন; ভোট নেওয়া হবে ১১ হাজারেরও বেশি বুথে। এ দফার ৪৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি লড়ছে ৩৯টিতে, ১০টিতে তাদের মিত্র অসম গণপরিষদ। সমঝোতা না হওয়ায় দুটি আসনে দুই দলই প্রার্থী দিয়েছে।

কংগ্রেস লড়ছে ৪৩টিতে, একটি করে আসন তারা ছেড়েছে বদরুদ্দিন আজমলের এআইডিইউএফ, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, আঞ্চলিক গণ মোর্চা (এজিএম) ও সিপিআইএমএলকে।

এই দুই জোটের বাইরে আসামের নির্বাচনে আছে আসাম জাতীয় পরিষদও (এজেপি)। গত বছর অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং আসাম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদ মিলে এ জোট গঠন করে।

কয়েকদফায় সব আসনে ভোটগ্রহণ শেষে ২ মে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল জানা যাবে। একইদিন মিলবে তামিল নাডু, কেরালা ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির বিধানসভা ভোটের ফলও।

তথ্যসূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *