#ইসলাম ও জীবন দর্শন

সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য ….?

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের একাত্মবাদ ও রসুল (সা.)-এর রিসালাতে পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে বিশ্বাস স্থাপন করে যে ব্যক্তি তার প্রতিটি হুকুম-আহকাম মেনে চলে তাকেই মুমিন বলে। অন্যভাবে বলা যায়, মহান আল্লাহ, তাঁর প্রেরিত সব নবী- রসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল ও তাকদিরের ওপর পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে বিশ্বাস স্থাপন করে আর ইমান গ্রহণের পর যে ব্যক্তি ইমান থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয়নি সেই প্রকৃত মুমিন। আল কোরআন ও হাদিসে মুমিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃত ইমানদার তো তারাই আল্লাহর জিকির হলে যাদের অন্তর কেঁপে ওঠে।

আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে পড়া হয় তাদের ইমান বেড়ে যায়। সুরা আনফাল আয়াত ২। একজন মুমিন আল্লাহর ওপর ইমান আনার পর আর কখনো সন্দেহে পড়ে না। সে পূর্ণতার সঙ্গে আল্লাহর ওপর আস্থাশীল হয়। যেমন আল্লাহ নিজেই বলেছেন, ‘মুমিন তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.)-এর প্রতি ইমান আনার পর আর সন্দেহে পড়ে না এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে, এরাই সত্যবাদী। ’ সুরা হুজুরাত আয়াত ১৫। ‘তারা আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রভুকে ডাকে না। ’ সুরা ফুরকান আয়াত ৬৮।

মুমিনরা যে কোনো সংবাদকে যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও। এরপর নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও। ’ হুজুরাত আয়াত ৬।
অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে মুমিন বান্দারা এড়িয়ে চলে।

ইরশাদ হচ্ছে, ‘দয়াময় আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তারাই যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না আর অহেতুক বিষয়ের পাশ দিয়ে যখন তারা গমন করে তখন ভদ্রভাবে পাশ কাটিয়ে যায়। ’ সুরা ফুরকান আয়াত ৭২। সফল মুমিন কারা? এ প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, ‘মুমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী-নম্র, যারা অনর্থক কথার্বাতা বলে না, যারা জাকাত দান করে থাকে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে। সুরা মুমিনুন আয়াত ১-৪।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারী একে অন্যের সহায়ক। তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে। এদের ওপর আল্লাহ দয়া করবেন। ’ সুরা তওবা আয়াত ৭১। মুমিন জিন্দেগির অন্যতম বৈশিষ্ট্য মহব্বত ও দয়া। এজন্য মুমিনকে মহব্বত ও দয়ার প্রতীক বলা হয়। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য দয়াময় আল্লাহ (মানুষের অন্তরেও) মহব্বত পয়দা করে দেন। ’ সুরা মরিয়ম আয়াত ৯৬।

লেখকঃ মুফতি মুহাম্মদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী।
খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *