#সিলেট বিভাগ

সিলেট বিভাগের ২৭০৫ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ঘর পেতে যাচ্ছে সিলেট বিভাগের ২৭০৫ টি পরিবার । সিলেট বিভাগের চার জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৭০৫টি পরিবার আগামীকাল শনিবার নতুন ঠিকানা পাচ্ছেন। এখন স্বপ্নের নীড়ে পরিবার নিয়ে উঠার অপেক্ষায় তারা।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার অফিস সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে সিলেট জেলায় ১৪০৬টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ৪০৭টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৫৪২টি ও হবিগঞ্জ জেলায় ৩৫০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মিত ঘর উপকারভোগীদের সমঝে দেয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২ শতাংশ জায়গার ওপর সেমিপাকা ঘরে দু’টি শোবার কক্ষ, একটি বারান্দা, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম সংবলিত স্বপ্নের ঘরে উঠবেন ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব পরিবার। প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া, আসবাবপত্র বহনের জন্য আরও ৪ হাজার টাকা করে তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা প্রশাসকের হল রুমে এক প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমি ও গৃহহীন ১ হাজার ৪০৬টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা বাড়ি ‘স্বপ্ননীড়ে’ আগামীকাল শনিবার ঠিকানা পাবেন। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় তৈরি ভূমি ও গৃহহীন ৪ হাজার ১৭৮টি পরিবার পাচ্ছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। ইতোমধ্যে ১৪০৬ টি ঘর প্রস্তুত করে উপকারভোগীদের মাঝে সমঝে দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আগামীকাল শনিবার ১ হাজার ৪০৬টি ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে। এদিকে, বাকি ঘরগুলোও নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, সিলেট জেলার মধ্যে সর্বমোট ঘর হবে সিলেট সদরে ১৪৪টি, দক্ষিণ সুরমায় ১২০টি, বিশ্বনাথে ৬৬৯টি, ওসমানীনগরে ৫৩৩টি, বালাগঞ্জে ৮৭৫টি, বিয়ানীবাজারে ১০৪টি, গোলাপগঞ্জে ২০০টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১৩০টি, গোয়াইনঘাটে ৫০০টি, কানাইঘাটে ১৯৪টি, জৈন্তাপুরে ৩৩০টি, জকিগঞ্জে ১৩০টি এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২৫০টি। এর মধ্যে আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন সিলেট সদরে ১৭টি, দক্ষিণ সুরমায় ১৫টি, বিশ্বনাথে ১২০টি, ওসমানীনগরে ১৪০টি, বালাগঞ্জে ১৪০টি, বিয়ানীবাজারে ৫০টি, গোলাপগঞ্জে ৭৭টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ৭২টি, গোয়াইনঘাটে ২৫০টি, কানাইঘাটে ১৯৪টি, জৈন্তাপুরে ১২০টি, জকিগঞ্জে ৫৫টি ও কোম্পানীগঞ্জ ১১৭টি।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার অফিস সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষে সিলেট বিভাগের প্রায় ১০ হাজার ভূমিহীন পরিবার ঘর বরাদ্দ পাবেন। সিলেট বিভাগে বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ হাজার ঘরের মধ্যে সিলেট জেলায় বরাদ্দ ৪ হাজার ১৭৮টি, মৌলভীবাজারে এক হাজার ৭৫টি, হবিগঞ্জে ৪৫২টি এবং সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ৯০৮টি। এছাড়া, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট ঘর হবে ১১২৬টি। এর মধ্যে বড়লেখায় ৫০টি, জুড়ীতে ৭টি, কুলাউড়ায় ১১০টি, রাজনগরে ৯৮টি, কমলগঞ্জে ৮৫টি, শ্রীমঙ্গলে ৩০০টি ও সদর উপজেলায় ৪৭৬টি।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(রাজস্ব) ও পরিচালক স্থানীয় সরকার মো. ফজলুল কবীর সিলেটের ডাককে বলেন, আগামীকাল শনিবার এসব ঘর উদ্বোধরকালে সিলেটের চুনারুঘাট উপজেলার সাথে সংযুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চুনারুঘাট উপজেলায় এক জায়গায় একই সাথে ৭২টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত হয়ে কথা বলবেন।

গত বছরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন, মুজিববর্ষে দেশে কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সব ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। ফলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে সারা দেশের ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি ঘরহীন পরিবারকে আধপাকা টিন-শেড ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ভূমিহীন পরিবার রয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩টি। এসব ভূমিহীন পরিবার এই ঘর পাবেন। জমি আছে, কিন্তু ঘর নাই দেশে এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫০টি। এসব পরিবারকেও ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।
বালাগঞ্জে ১৪০টি পরিবার পাচ্ছেন ‘স্বপ্ননীড়’
মো. জিল্লুর রহমান জিলু, বালাগঞ্জ (সিলেট) থেকে জানান, এ যেন ভূমি ও গৃহহীনদের স্বপ্নপূরণের মাহেন্দ্রক্ষণ! সিলেট বিভাগের অন্যান্য স্থানের মতোই আগামীকাল শনিবার নতুন ঘর পাচ্ছেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার উপকারভোগীরা। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৪০টি পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার এই ‘স্বপ্ননীড়’। আগামীকাল শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ঘর হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাংশু কুমার সিংহ জানান, ২০২০ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। তার এই মহান ব্রতকে সামনে রেখেই মুজিববর্ষে প্রতিটি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবার পাচ্ছে দুর্যোগ সহনীয় সেমিপাকা ঘর, আর দুই শতাংশ জমির মালিকানা। প্রকল্পে বালাগঞ্জের ভূমিহীন, গৃহহীনদের জন্য ১শ ৪০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গৃহনির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১লাখ ৭১হাজার টাকা। আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন, গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার এসব ঘর নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে নামজারি এবং খতিয়ানসহ ২শতক ভূমি দেয়া হচ্ছে। চলতি পর্যায়ে বালাগঞ্জের ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের ভূমিহীন, গৃহহীনদের জন্য এসব ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে ৪০টি। এছাড়া পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে ২৭টি, বোয়ালজুড় ইউনিয়নে ১৪টি এবং পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নে ৫৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার অন্য ২টি ইউনিয়নের মধ্যে দেওয়ান বাজারে ১শ ২৯টি এবং পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নে ১শ ৪৭টি ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবারকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের জন্য গৃহনির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৭শ ৫৯টি ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ তালিকা আরও যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকৃত ভূমিহীন, গৃহহীনদের পর্যায়ক্রমে আবাসন প্রকল্পের আওতায় ‘স্বপ্ননীড়’ নির্মাণ করে দেয়া হবে।

আলাপকালে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমিহীন, গৃহহীনদের জন্য ভূমি ও গৃহ নির্মাণের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প চালু করেছেন। এ প্রকল্পের আওতায় আমাদের বালাগঞ্জে ঘরনির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।

সুনামগঞ্জে ঘর পাচ্ছেন ৪০৭ ভূমিহীন পরিবার
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর প্রথম পর্যায়ে জেলার ১০টি উপজেলায় ঘর পাচ্ছেন ৪০৭টি ভূমিহীন পরিবার। তিনি বলেন, মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পুনর্বাসনের জন্য ঘর প্রদান করা হবে।

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কে সুনামগঞ্জ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত নির্মিত সারাদেশে ৬৭ হাজারটি ঘর উদ্বোধন ও হস্তান্তর করবেন। এতে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলার ৪০৭টি ঘরও থাকবে। শুধুমাত্র দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১৫২টি ঘর নির্মাণ করার কথা থাকলেও বিজ্ঞ আদালতের স্থগিতাদেশের জন্য এ নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থ বছরে সুনামগঞ্জে মোট ৩ হাজার ৯০৮টি ঘর তৈরি করা হবে। আমরা আশাকরি আগামী মার্চে মাসের মধ্যেই ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীন ও ভূমিহীনদের একটি ঠিকানা দিয়েছেন যার ফলে ২৩ জানুয়ারী সবার কাছে তাদের ঘর সংক্রান্ত জরুরী কাগজপত্রও দিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া ঘর নির্মাণে যদি কেউ কোন রকমের টাকা দাবি করলে বা ঘর নির্মাণে শ্রমিকদের মজুরী বা মালামাল খরচ চাইলে আপনারা বিষয়টি আমাকে জানাবেন। এছাড়া ঘরগুলো সঠিক ব্যক্তি পাচ্ছে কি না সে বিষয়ে আমাদের নজর রাখতে হবে। ঘর নির্মাণ ও প্রদানে কোন রকমের দুর্নীতি বা অনিময় অথবা টাকা দাবি করলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেবো।

সভায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার মো. রিফাতুল হক সুনামগঞ্জে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনায় জানান, সুনামগঞ্জে গৃহহীন ও ভূমিহীন ‘ক’ শ্রেণির পরিবারের সংখ্যা ১১ হাজার ২৫৪টি। যার মধ্যে ২০২০-২১ অর্থ বছরে মোট তিন হাজার ৯০৮টি ঘর নির্মাণ করা হবে। এখন পর্যন্ত জেলার তাহিরপুর উপজেলায় ২৫টি. জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৩টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৩০টি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫০টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ৩৪টি, দিরাই উপজেলায় ৪০টি, শাল্লা উপজেলায় ১৬০টি, ছাতক উপজেলায় ১০টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১০টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২৫টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আইনুল ইসলাম বাবলু, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি জিয়াউল হক, সম্পাদক বিজন সেন রায়, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তারেক, সাংবাদিক পঙ্কজ কান্তি দে, খলিল রহমান প্রমুখ।

মৌলভীবাজারে মুজিব বর্ষের ১১২৬টি ঘর প্রস্তুত
মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ১১২৬টি সেমিপাকা ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে এসব ঘর হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জমি বাছাইসহ এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, খাস জমি দখলমুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রথম পর্যায়ে ১১শ’ ২৬টি সেমি-পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণ ও হস্তান্তর পর্যন্ত খরচ হবে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৫০টাকা। সেমি-পাকা ঘরের সঙ্গে একটি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার ২ শতক জমিও পাবেন। জমিসহ ঘর হস্তান্তরের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এই তারিখে ৫৪২টি ঘর হস্তান্তর করা হবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্মাণাধীন অন্য ঘরসহ জমি উপকারভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে প্রশাসন।
জেলার বড়লেখায় ৫০টি, জুড়ীতে ৭টি, কুলাউড়ায় ১১০টি, রাজনগরে ৯৮টি, কমলগঞ্জে ৮৫টি, শ্রীমঙ্গলে ৩০০টি ও সদর উপজেলায় ৪৭৬টি ঘর সরকারের খাস জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মল্লিকা দে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। তথ্য সূত্র : সিলেটের ডাক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *