করোনায় মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ালো যুক্তরাজ্যে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন, যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে লাখ ছাড়াতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতি এখন এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, ১২ জানুয়ারীতেই সেই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
১২ জানুয়ারী ২৪ ঘন্টায় মোট মারা গেছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন, যা একদিনে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। গত মার্চ হতে বুধবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে সর্বমোট ১ লাখ ১ হাজার ১৬০ জনের মৃত্যু হলো করোনায়।
পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড বলেছে, মহামারীর প্রথম ঢেউয়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃতের সংখ্যা। স্কটল্যান্ডে শনিবার থেকে লকডাউন আরো বেশি কঠোর করা হচ্ছে। ফুড টেকএওয়ে এবং ক্লিক-এন্ড-কালেক্ট সার্ভিস আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘন্টা ব্যাপি টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে। পরবর্তী পর্যায়ের ভ্যাকসিন প্রোগ্রামে স্কুল স্টাফরে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে এডুকেশন সেক্রেটারী গ্যাভিন উইলিয়ামসন জানিয়েছেন। ব্রাজিলে ধরা পড়া কোভিড এর নতুন ধরন নিয়েও ব্রিটিশ সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ব্রাজিল থেকে লোকজনের আগমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গেনাইজেশন করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন বা বৈশিষ্ট্যের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের স্ট্রেইনটি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সংক্রামক, যা এরই মধ্যে ৫০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের পাবলিক হেলথ বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর এবং বিশেষজ্ঞদের স্বতন্ত্র গ্রুপ এর সদস্য, গ্যাব্রিয়েল স্কালি বলেছেন, ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মহামারী মোকাবেলা কীভাবে করা হচ্ছে, সেটাই ইঙ্গিত করে। কভিডের মতো নতুন ও বিপজ্জক এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নীতি ও কার্যক্রমের অভূতপূর্ব এক ব্যর্থতার চিহ্ন হচ্ছে এই ১ লাখ মৃত্যু।
মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৪১৮ টি মৃত্যুর সার্টিফিকেটে কারণ হিসেবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারীভাবে আরো ৭ হাজার ৭৪২ জনের মৃত্যু খবর জানানো হয়, যাদের ২৮ দিনের মধ্যে পজেটিভ টেস্ট হয়েছে।
দ্যা গার্ডিয়ান অনলাইনে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের প্রফেসার ক্রিস্টিনা প্যাজেল বলেন, যুক্তরাজ্যের মৃতের এই সংখ্যা ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার ইঙ্গিত করে। সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে আমরা এত প্রানহাণি রুখতে পারতাম। তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা, বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন ডিসেম্বরে ক্রিসমাসের পর পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারন করবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ২০২০ সাল হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস হচ্ছে একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকের প্রাণহানির অর্থাৎ মরণঘাতি বছর। সরকারি হিসেবে ২০২০ সালে সর্বমোট ৬ লাখ ৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন, যার মধ্যে ৮১,৬৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরসে।
এর আগে ১৯১৮ সালে ভয়াবহ স্পেনিশ ফ্লু মহামারীতে বার্ষিক মৃতের সংখ্যা ছিলো ৬ লাখ ১১ হাজার ৮৬১ জন।
স্ক্যালি আরো বলেন, কোভিড এ আক্রান্ত হয়ে মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে। তাঁর ধারনা আরো ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানির পর ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসবে।





