#ইতিহাস ও ঐতিহ্য

শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত — সৈয়দ এনায়েতুর রহমান

শ্রীহট্টের ইতিহাসের আকর গ্রন্থদ্বয়”শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত”প্রণেতা শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধিঃবিংশ শতাব্দীর ইতিহাস চর্চ্চার দিকপাল(২য় অধ্যায়/২য় খন্ড)
===================================
শ্রীহট্টের ইতিহাস রচনার জন্য শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী যে ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন তা ছিল একজন প্রকৃত ইতিহাস লেখকের প্রচেষ্টা।এই দু’খন্ডের ইতিহাস গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁর মোট ১৭ বছর সময় লেগেছিল।ইতিহাসের উপকরণ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশ।প্রতিটি ধাপেই তাঁর পান্ডিত্য এবং মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।১৯১০সনে”পূর্বাংশ”এবং ১৯১৭সনে”উত্তরাংশ”প্রকাশের মাধ্যমে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের সমাপ্তি ঘটে।

এই গ্রন্থদ্বয় রচনা পিছনে সবচে বড় অনুপ্রেরণা ছিল তাঁর ইতিহাস শাস্ত্রটির প্রতি অনুরাগ ও ভালবাসা।এই বই দুটি সম্পূর্ণ করাকে তিনি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ছিলেন।অনেক বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও,আমরা দেখেছি উৎরে গেছেন অতি সাফল্যের সঙ্গে।এতে অবশ্য তিনি পারিবারিক ও আর্থিক ভাবে দূর্বিষহ অবস্থায় পড়েছেন।তবে ভেঙ্গে পড়েন নি,দমে যান নি।

সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ তিনি প্রথম খন্ড”পূর্বাংশ”রচনায় ব্রতী হন।১৮৮৮সনে তিনি ইতিহাসের মালমশলা সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।এজন্য তিনি শ্রীহট্টের বিভিন্ন বংশীয় নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি বরাবর রেজিস্ট্রি ডাক যোগে পত্র পাঠান।এই পত্রের বিষয়বস্তু ছিল স্বীয় বংশীয় ও এলাকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান।বছর গড়িয়ে গেলেও কোন আশানুরূপ সাড়া পেতে ব্যর্থ হলেন।১৮৮৯সনে তিনি শ্রীহট্টের”উইকলি ক্রনিকল”পত্রিকা ও কাছাড়ের শিলচরের বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তথ্য আহবান করেন।
শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি মহাশয়ের চিঠি পেয়ে যারা তথ্য প্রদানে সাহায্য করেন তাদের মধ্য অন্যতম হলেন ইটার পাঁচগাও নিবাসী উকিল হরকিঙ্কর দাস,তরফের সুঘর নিবাসী শ্রী ঈশানচন্দ্র মজুমদার তুঙ্গেশ্বরের শ্রীশচন্দ্র মজুমদার।জয়ন্তিয়াপুরের রাধাচরণ পাল ও শ্রীহট্ট সদরের শ্রী সারদাচরন ধর মুন্সী।আর মুসলমানদের মধ্যে তরপের পৈলের জমিদার মৌলভী শাহ সৈয়দ এমদাদুল হক ও রামশ্রীর সৈয়দ সাজিদুর রহমান অন্যতম।

১৮৮৯সনে শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী মহাশয় শ্রীহট্টের ডেপুটি কমিশনার সাহেব বরাবর মহাফেজখানায়(Archive)রক্ষিত দলিল ও সনন্দসমূহ নিরীক্ষা করার অনুমতি প্রার্থনা করেন।১৮৯০সনে চীফ কমিশনার সাহেব নিরীক্ষার সদয় অনুমোদন প্রদান করেন।(চলবে)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *