কাজীটুলায় নববধূর লাশ উদ্ধার।
সিলেট নগরীর কাজীটুলা এলাকার একটি বাসা থেকে সৈয়দা তামান্না বেগম (১৯) নামের এক নববধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে স্বামী মো. আল মামুন পলাতক। পরিবারের দাবি ঘটনাটি হত্যাকান্ড।
গতকাল সোমবার দুপুরে কাজীটুলার অন্তরঙ্গ এ/৪ নম্বর ভাড়া বাসায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে তামান্নার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নববধূ সৈয়দা তামান্না বেগমের পৈতৃক নিবাস দক্ষিণ সুরমার ফুলদি গ্রামে। তিনি সৈয়দ ফজলুর রহমান মেম্বারের মেয়ে। তবে তারা বর্তমানে গোলাপগঞ্জ উপজেলার এমসি একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। মামুনের বাড়ি বরিশালের হোগলার চরে বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। যদিও ভোটার আইডি কার্ডে ঠিকানায় আল মামুন নগরীর বারুতখানা এলাকার বাসিন্দা বলে উল্লেখ রয়েছে।
নিহতের ভাই সৈয়দ আনোয়ার হোসেন জানান, আল-মামুন নগরীর জিন্দাবাজারের আল মারজান শপিং সেন্টারের ঐশি ফেব্রিক্সের মালিক। বিয়ের আগের দিন ২৯ সেপ্টেম্বর আল মামুন কাজীটুলার বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। রোববার দিবাগত রাত ৯টার একটু আগে তার বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন তার মা। তখন কথাবার্তা ছিল স্বাভাবিক। গতকাল সোমবার সকাল থেকে তামান্না ও তার স্বামী আল মামুনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে তাদের সন্দেহ হয়। দুপুরের দিকে পুলিশ নিয়ে কাজীটুলার অন্তরঙ্গ এ/৪ নম্বর ভাড়া বাসায় গিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান তারা। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন বিছানায় তামান্নার লাশ। ধারণা করা হচ্ছে, গলায় কিছু পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে তামান্নাকে হত্যা করে পালিয়েছেন তার স্বামী।
নিহত তামান্নার খালাতো ভাই ইকবাল হোসেন জানান, ৬ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ৪র্থ তামান্না। পারিবারিকভাবেই তার বিয়ে হয়েছিলো। মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এক মহিলাকর্মীর মধ্যস্থতায় বিয়ে হয় তামান্নার। আলাপ আলোচনার মাত্র ১০ দিনের মাথায় বিয়ে হয়। আত্মীয় স্বজন অনেকেই বিষয়টি ভালোভাবে মেনে না নেয়ায় বিয়েতে অংশগ্রহণ করেননি।
ইকবাল হোসেন আরো জানান, কয়েক দিন আগে তামান্নার সাথে স্বামীর মনোমালিন্য চলছে খবর পেয়ে মা ও ভাই গিয়ে বিষয়টি সমাধান করে দেন। এরপর এই হত্যাকান্ড। তিনি স্বামী আল মামুনকে দ্রুত গ্রেফতার করে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, তামান্না বেগমের ঘরের দরজা তালাবদ্ধ দেখে বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশিদের সন্দেহ তৈরি হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে তামান্না বেগমের লাশ উদ্ধার করে। তবে তার স্বামী আল মামুন পলাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।





