#ইসলাম ও জীবন দর্শন

একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আলেমের জীবন গাঁথা।

তুরস্কের আকরাম উশার বাল্যকালেই বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এরপর মাত্র ১৫ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় ডান চোখটিও হারান তিনি। কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও জীবনের হাল ছাড়েননি, তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দৃঢ় সংকল্প ও নিরলস পরিশ্রমের গুণে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন তিনি।

আকরাম উশার বলেন, বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর আমি যখন আমার ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে অন্ধকার দেখি, হতাশায় কাতর হয়ে পড়ি, তখন দাদা আমার হাত ধরে বলেছিলেন—তোমার কিছুই হয়নি, দৃষ্টিহীন হয়েও তুমি তোমার পৃথিবী আলোকময় করে তুলতে পারো। তোমার জন্য নিরাশার কিছুই নেই, চেষ্টা করলে তুমিও জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারবে। দাদার পরামর্শেই তুরসুসের একটি হিফজ বিভাগে ভর্তি হই আমি। হিফজ বিভাগের জীবনকে আমি ভালোই উপভোগ করছিলাম। কোরআনের সংস্পর্শে এসে আমার মধ্যে অলৌকিক এক আলো অনুভব করলাম।

আলহামদুলিল্লাহ! মাত্র ১০ মাসেই সম্পূর্ণ কোরআনে কারিম হিফজ করার সৌভাগ্য অর্জন করি। এতে আমার নৈরাশ্য ও হতাশা অনেকটাই কেটে যায়। তখন আমি আত্মোপলব্ধি করি যে আমি এখন খুশি ও নিশ্চিন্ত।

কিন্তু আমি যখন আমার ভবিষ্যৎ জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা শুরু করি, ঠিক তখনই আমার জীবনে আরো বড় অন্ধকার নেমে আসে। দুর্ঘটনায় ডান চোখটিও হারিয়ে ফেলি। এখন আমি অন্ধ। অথচ বয়স মাত্র ১৫ বছর।

তার পরও আমার আত্মশক্তি আরো বলীয়ান হয়ে ওঠে। আমি সংকল্প করি, আমার জীবনটাই যুদ্ধের, হার মানা চলবে না। হাফেজে কোরআন হিসেবে চারটি লক্ষ্য নির্ধারণ করি—
এক. আমার অন্তরে কোরআন আরো গভীরভাবে গেঁথে নেব।

দুই. তুরস্কের একজন সেরা হাফেজ হব।

তিন. আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের মান উজ্জ্বল করব।

চার. দেশ-বিদেশে কোরআনের খিদমতের যোগ্যতা অর্জন করব।

আলহামদুলিল্লাহ! আমি আমার লক্ষ্যপানে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলছি। ২০১৬ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত যুবকদের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছি। ২০১৮ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অন্তত ৫৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জনে সমর্থ হই। এর আগে ২০১৬ সালে তুরস্কের আকসারা ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাই। একই বছর হাসাস শহরের মসজিদে ইমাম হুসাইন (রা.)-এ মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পাই এবং মাস্টার্সে ভর্তি হই। মসজিদে আগত মুসল্লিদের কোরআনে কারিম পড়ানোর সুযোগ পেয়ে যাই আর বিষয়টি আমি দারুণভাবে উপভোগ করতে থাকি।

কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে ইমামের পদ খালি হলে কর্তৃপক্ষ আমাকে নতুন ইমাম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ! আমি আমার জীবন নিয়ে খুব খুশি ও আনন্দিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *