কেমন আছেন করোনায় আটকে পড়া শায়েস্তাগঞ্জের প্রবাসীরা !
এম হায়দার চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিদেশ ফেরত প্রবাসীরা কর্ম হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন। করোনার কারনে কর্মস্থল বিদেশে যেতে নাপেরে যার যার সাধ্যমতো ভিন্ন ভিন্ন পেশায় সংযুক্ত হচ্ছেন জিবন জীবিকার প্রয়োজনে। হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিযে সংসার প্রতিপালনের তাগিদে স্বজনদেরকে ছেড়ে ভিনদেশে কাজ করতে যান প্রবাসীরা। করোনা প্রার্দুভাবের সময় বিদেশ থেকে এসে আর যেতে পারেননি অনেকেই। দেশে লকডাউনে আটকা পড়ে অলস সময় কাটিয়ে অনেকেই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। কেউবা আবার বিদেশে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রবাস জীবন ভুলে দেশে কিছু একটা করার চেষ্টা ও করে যাচ্ছেন নিরন্তর।
উপজেলার কুতুবের চক গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন তিন মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন সৌদি আরবের মদিনা থেকে। ছুটি শেষে করোনা পরিস্থিতির কারণে ফেরত যেতে পারেননি। প্রায় সাত মাস কর্মহীন থাকার পর অবশেষে ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনি মদিনার নামিদামি একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন ভাল বেতনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবারও সৌদি ফিরতে চান। এ উপজেলার অনেক প্রবাসীই দেশে বিকল্প কর্ম খুঁজছেন। অনিশ্চিত আগামীর কথা ভেবেই কেউ ব্যবসা, চাকরী কিংবা চাষাবাদে মনযোগী হচ্ছেন। আবার কেউ বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজ বেঁছে নিয়েছেন। একই উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাবলু মিয়া কাতার থেকে ছুটিতে এসে বিপাকে পড়েছেন। তিনি ও আবার র্কমস্থলে ফেরার জন্য চেষ্টা করছেন। ব্রাক্ষণডুরা গ্রামের জোবায়ের আহমেদ সিঙ্গাপুর থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে যেতে পারেননি। আর কর্মস্থলে ফেরার ইচ্ছেও নেই তার।
প্রবাসীদের অনেকেরই ইচ্ছা, আপাতত পেশা যাই হোক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় আবারও প্রবাসে ফিরবেন তারা। দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখতে চান তারা।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুল ইসলাম জাহেদ বলেন, সরকার প্রবাসীদের প্রতি খুবই আন্তরিক। প্রবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনাও ঘোষণা করেছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিক হলে অবশ্যই বিদেশ ফেরতদেরকে কর্মস্থলে পাঠানোর জন্য সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, সঠিক কতজন প্রবাসী শায়েস্তাগঞ্জে লকডাউনে আটকা আছেন আমার কাছে এই তথ্য ও তালিকা নেই। তবে একজন আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি সিলেটে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।





