#পাঠক সমাচার

“এখন বুঝতে পারছেন কেন প্রতিবাদ করিনি?” — সৈয়দ এনায়েতুর রহমান

“এখন বুঝতে পারছেন কেন প্রতিবাদ করিনি?”
===============================
১৯১৭সনের নভেম্বর বিপ্লবের মহান নায়ক জারতন্ত্রের উচ্ছেদকারী সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ১৯২২সনে স্টোকে আক্রান্ত হন।১৯২৪সনে তাঁর জীবনাবসান হয়।যোসেফ স্টালিন হন সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বসেবা।
নভেম্বর বিপ্লবে স্টালিনেরও অশেষ অবদান আছে তা অনস্বীকার্য।তিনি ও লিয়ন ট্রটস্কি দুজনই লেনিনের ঘনিষ্ঠ জন ছিলেন।

লেনিনের অসুস্থাবস্থায়ই ট্রটস্কি ও স্টালিনের মধ্যে মত পার্থক্য ও দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠে।বিশেষ করে জর্জিয়ায় আগ্রাসনে লেনিন ও ট্রটস্কির তেমন সায় ছিল না।জর্জিয়ায় আগ্রাসনে স্টালিনের কঠোরতায় লেনিন ক্ষুদ্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে।কিছু দর্শনগত
মত পার্থক্যের সঙ্গে যোগ হয়েছিল ব্যাক্তিত্বের সংঘাত।পরবর্তী ইতিহাস আমরা সবাই কমবেশি জানি।

লেনিনের মৃত্যুর পর তিনি পার্টির সর্বসেবা হয়ে ক্ষমতা সংহত করার সব ঘৃণ্য পন্থাই তিনি অনুসরণ করেন।ষড়যন্ত্র,হত্যা,গুম এবং প্রতিপক্ষ
-কে নিচিহ্ন করার এ হেন কর্ম নেই যে তিনি অত্যন্ত সুচারু ও দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগান নি!একজন সফল”স্বৈরশাসক”এর প্রতীক হিসেবে তিনি আজও ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।”লৌহমানব”তকমা তাঁর জুটে ছিল জীবদ্দশায়ই।দীর্ঘ শাসন আমল ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের এক অন্ধকার সময়।তাঁর শাসনের সমালোচনা ছিল এক অর্থে নিজের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা।

জনগণ তাঁকে কেমন ভয় পেত তার একটি উদাহরণ দেখুন।ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি এক সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন।ভাষনের বক্তব্য যথারীতি লেনিন ও ট্রটস্কির দর্শনের সমালোচনা আর তার পদক্ষেপের প্রশস্তিগীত।ওই সমাবেশেই কেউ একজন হঠাৎ করে সাহস করে বলে উঠল”তখন আপনি কোথায় ছিলেন? কেন প্রতিবাদ করেন নি?”—-হুংকার দিয়ে উঠলেন স্টালিন।
“কে?কে বলল এ কথা?” পুরো সমাবেশে নেমে এলো কবরের নিস্তব্ধতা।এবার সামান্য বিরতি নিয়ে স্টালিন বললেন”এখন বুঝতে পারছেন কেন প্রতিবাদ করি নি?”

এভাবেই “স্বৈরশাসক”রা যুগে যুগে উত্তরসূরীদের কাছ হতে শিক্ষা নেন এবং নিজেও কাজে লাগান!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *