পাব-রেস্তোরাঁ রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে : বরিস জনসন।
কোন মতেই দেশ জুড়ে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে ফিরবে না ব্রিটেনও। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে দেশটিতে বিধিনিষেধ আরো কঠোরভাবে আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
হাউজ অব কমন্সে ও রাতে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, পানশালা (পাব, বার) ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যেই।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সম্ভব হলে ঘরে বসে কাজ করুন। বহিরাগতরা ৬ জনের অধিক মিলিত হতে পারবেন না। বিয়ে বা সিভিল ম্যারেজে সর্বোচ্চ ১৫ জন আমন্ত্রিত হতে পারবেন। অন্তোষ্টি ক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ৩০ জন অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোন প্রকার বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভায় এক সাথে ৬ জনের বেশি দাঁড়ানো যাবেনা। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলিতে পূর্বের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রার্থনা চলবে। পাব ও রেস্টুরেন্ট রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। সকল প্রকার রিটেইল দোকানে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যবহার না করলে ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা। সকল প্রকার ইনডোর খেলাধূলা বন্ধ রাখার নিদের্শ দেয়া হয়েছে। আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে।
এদিকে ব্রিটেনে গত ২৪ ঘন্টায় (মঙ্গলবার) করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত ৭ মে’র পর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেন। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯২৬৮ জন।
আগামী মাসের মাঝামাঝি নাগাদ করোনা সংক্রমণ প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে- সম্প্রতি দেশটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এমন আশঙ্কার পর এবার নড়েচড়ে বসে বরিস জনসনের সরকার।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে দেয়া এক ভাষণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয়মাসের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ জারি করলেও পূর্নাঙ্গ লকডাউনে ফিরবে না তার দেশ। একই সঙ্গে, রাত দশটার পর বার এবং পানশালাগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশনা দেন তিনি। জোর দেন ঘরে বসে অফিস করার ওপর।
এদিকে বেশ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটি। বিশেষ করে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠার মাঝে থাকতে হচ্ছে অভিভাবকদের। তাছাড়া, চাকরি সংকটসহ অর্থনৈতিক মন্দাভাবও ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।
তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা কম। তবে, নভেম্বরের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ মানুষ আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





