বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী আড়ালেই থেকে গেলেন !
সৈয়দ শিমুল, ম্যানচেস্টার : আজ ১লা সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী সাহেবের ১০২তম জন্মবার্ষিকী। তিনটি ভিন্ন দেশের (ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের) সেনাবাহিনীতে সগৌরবে উচ্চ পদে আসীন ছিলেন তিনি। ব্রিটিশ আর্মিতে সবচেয়ে কম বয়সে মেজর রেঙ্ক নিয়ে বার্মাতে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তানে আসেন এবং ওই সময় তাকে লে: কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়। ১৯৪৮ সালে তিনি কোয়েটা স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্সে যোগদান করেন।
সেখান থেকে তিনি পিএসসি ডিগ্রী লাভ করে সেনাবাহিনীর তদানীন্তন চীফ অব দি জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল রেহিলেন হার্ট এর সহযোগী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি খুলনা, যশোর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্টেশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৫ সালের ৭ নভেম্বর ব্রিগেডে অস্থায়ী ব্রিগেড কমান্ডার নিযুক্ত হন। তারপর ওই বছরই তিনি পাকিস্তান রাইফেলস’র কমান্ডার নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সালের মে মাসে তিনি মিলিটারী অপারেশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর নিযুক্ত হন এবং কর্ণেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক ইন্টারমিনিস্ট্রারিয়েল কমিটি গঠন করলে ওসমানীকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রতিনিধি ও মুখপাত্র নিযুক্ত করা হয়। ১৯৬৪ সালে তাঁকে আধুনিক সামরিক ব্যবস্থা ও বৈজ্ঞানিক উন্নতি অনুধাবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। ১৯৬৫ সালে ওসমানীকে পাক-ভারত যুদ্ধে ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশন পদে নিযুক্ত করা হয়। পরে ১৯৬৭ সালে আইয়ূব খান সামরিক বাহিনী থেকে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেন। তিনি বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়ার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেন। মূলত জেনারেল এম এ জি ওসমানী ছিলেন বেঙ্গল রেজিমেন্টের স্বপ্নদ্রষ্টা। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ২ থেকে ৬ ব্যাটালিয়নে উন্নীত, সেনাবাহিনীতে বাঙালি নিয়োগ শতকরা দুই ভাগ থেকে দশভাগ বৃদ্ধি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চল চল চল কবিতাকে মার্চ পাস্ট সঙ্গীতের মর্যাদা, বেঙ্গল রেজিমেন্টের সামরিক বাদ্যযন্ত্রে ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ ইত্যাদি প্রচলন করেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে তিনি এম এন এ নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিক্ষিত মুক্তিবাহিনীকে সংঘটিত করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার জেনারেল ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেন। তার বলিস্ট নেতৃত্বের কারণেই মুক্তিবাহিনীর বিজয় অনেকটা সু-নিশ্চিত হয়েছিলো।
দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের সামরিক উপদেষ্টা থেকে শুরু করে কেবিনেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে বাকশাল গঠনের পর তিনি জাতীয় পরিষদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আসেন।
কিছুটা অবাক, বিস্ময় ও খেদ নিয়ে লক্ষ্য করলাম, আজকের এই দিনটাতে জেনারেল ওসমানীকে নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় কোন পত্রিকাতেই কোন ধরণের সংবাদ প্রকাশিত হয়নি ? সিলেটের কিছু দৈনিক পত্রিকা ছাড়া আর কেউ মনে রেখেছে বলেও মনে হয়না ! ইতিহাসের এই মহানায়ককে কি আমরা স্মৃতি থেকে মুছে দিলাম, নাকি তাকে আড়াল করার পিছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে ?





