রাজধানীর চারপাশে স্পিডবোট সার্ভিস উদ্বোধন।
যাত্রী পরিবহনের জন্য রাজধানীর চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথে স্পিডবোট সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রাথমিকভাবে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদে টঙ্গী-আবদুল্লাহপুর-কড্ডা এবং আবদুল্লাহপুর-উলুখুল (কালীগঞ্জ)- এ দুটি নৌপথে এই স্পিডবোট সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মাওয়া ঘাটে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্পিডবোট সার্ভিসের পাঁচটি দ্রুতগামী স্পিডবোট দিয়ে আপাতত এই সার্ভিস চালানো হবে। পর্যায়ক্রমে এই সার্ভিসের আওতা ও কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
শনিবার টঙ্গী নদীবন্দরের মিরাশপাড়া এলাকায় এই স্পিডবোট সার্ভিসের উদ্বোধনের পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএর ব্যবস্থাপনায় একটি ইকোপার্কের উদ্বোধনও করা হয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। ইকোপার্ক তৈরির উদ্দেশ্য নদীর তীরভূমি দখল রোধ ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত বিনোদনের ব্যবস্থা করা।
এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তুরাগ নদের পাড়ে বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছর মুসল্লিরা আসেন বিশ্ববাসীর জন্য দোয়া চাইতে। তুরাগ নদের পাড় সারাবিশ্বের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। অথচ দিন দিন তুরাগ নদ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। সবার উচিত, এই তুরাগ নদের পানিকে দূষণমুক্ত রাখা। আমরা যেন আগত সারাবিশ্বের মুসল্লিদের বিশুদ্ধ পানি দিতে পারি।
তিনি বলেন, গাজীপুরের টঙ্গীতে অনেক শিল্প-কারখানা রয়েছে। যাদের ইটিপি প্লান্ট রয়েছে, তারা সবাই যেন ইটিপি প্লান্ট সচল রাখেন। তাহলেই তুরাগ নদ দূষণমুক্ত হবে।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল, নৌ পুলিশপ্রধান শফিকুল ইসলাম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যুগ্ম সচিব এ এস এম সফিউল আজম, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
জানা গেছে, বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে দুটি রুটে স্পিডবোটগুলো চলাচল করবে। আবদুল্লাহপুর থেকে কড্ডা রুটে ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকা। স্পিডবোটে এই রুটে চলাচলে সময় লাগবে ২৫ মিনিট। আর আবদুল্লাহপুর থেকে উলুখুল (কালীগঞ্জ) যেতে ভাড়া গুনতে হবে ১২০ টাকা। এই যাত্রায় সময় লাগবে ১৯ মিনিট। পর্যায়ক্রমে যাত্রী চাহিদার আলোকে কড্ডা-গাবতলী ও গাবতলী-সদরঘাট- এ দুটি নৌরুটেও স্পিডবোট সার্ভিস চালু করা হবে বলে নৌ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌপথ চালু করে সড়কপথে যানবাহনের চাপ কমানো এবং নৌপথে সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে কয়েক বছর আগেই কয়েক ধাপে ঢাকার চারটি নদীর ১১০ কিলোমিটারে নৌপথ নির্দিষ্ট করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ বৃত্তাকার নৌপথের নদী খননসহ ৯টি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে নৌপথটি চালু করেছিল। বর্তমানে ওই নৌপথে মালপত্র পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্ব পেলেও লো-হাইটের ব্রিজ, অতিরিক্ত সময় এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশের অভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী সময়ে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক ওয়াটার বাস চালু করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে টঙ্গী নদীবন্দর থেকে বৃত্তাকার নৌপথে যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুতগামী স্পিডবোট চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তা ছাড়া যাত্রী চাহিদার আলোকে ঢাকা শহরের বৃত্তাকার নৌপথে দ্রুতগামী স্পিডবোট চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্পিডবোট চালক আলতাফ ও আলমাস বলেন, এই সার্ভিসে প্রাথমিকভাবে যে পাঁচটি দ্রুতগামী স্পিডবোট চলবে- সেগুলো আগে মাওয়া ঘাটে চলত। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ইজারাদারের মাধ্যমে সেগুলো টঙ্গীতে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে ঢাকা শহরের লোকজন স্পিডবোটে চলাচল করতে ভয় পান। কারণ, অনেকে সাঁতার জানেন না। তারপরও আশা করছি, এই সার্ভিস ভালোভাবেই চলবে।
স্পিডবোটের ইজারাদার মিয়া ভাই বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি স্পিডবোট দিয়ে সার্ভিস শুরু হলেও এই নৌপথে ৩০টি স্পিডবোট চলাচলের লক্ষ্য রয়েছে তাদের। পর্যায়ক্রমে গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এই সার্ভিস বিস্তৃত করা হবে। এ লক্ষ্যে এখানে উলুখুল, শিন্নিরটেক, গাবতলী, সদরঘাট, কড্ডাসহ মোট সাতটি স্পিডবোট ঘাটও নির্মাণ করা হবে।





