#দেশের খবর

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে যুবদল কর্মী নিহত।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে পুলিশের বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন যুবদলকর্মী শাওন আহমেদ। এরপর তুলারাম কলেজের ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন সুজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও সন্ধ্যার পর খবর আসে যে সুজন মারা যায়নি। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদিকে সংঘর্ষে আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, শাওন পুলিশের গুলীতে নিহত হয়েছে। মারা যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে লাশ রাখা হয়। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক নাজমুল হোসেন শাওনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

গতকাল সকাল ১০টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শোভাযাত্রা করতে নগরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের শোভাযাত্রা করতে বাধা দেয়। সেসময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও শটগানের গুলী ছোড়ে। এ সময় শহরের দুই নম্বর রেলগেট ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মামুন মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ অতর্কিতভাবে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠিপেটা করেছে। এদিকে শাওনের মৃত্যু নিয়ে গতকার দুপুর থেকে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, ডোরাকাটা সাদা রঙের টি-শার্ট ও কালো জিনস পরিহিত শাওন মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন। একজন যুবদল নেতা বলেন, ডিআইটি আলী আহাম্মদ চুনকানগর মিলনায়তনের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে আমরা ২ নম্বর রেলগেটের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে আমরা গুলশান সিনেমা হলের সামনে অবস্থান নেই। সেখানেই একটি গুলী এসে শাওনের বুকের বাঁ পাশে লাগে। শাওন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যান। পরে তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ছোড়া কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে পড়ে। এতে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৪২ ছাত্রীর মধ্যে ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ ধাওয়া দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মর্গ্যান বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের দিকের রাস্তা দিয়ে ঢুকে পড়েন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে শটগানের গুলী ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় পুলিশের ছোড়া তিন-চারটি কাঁদানে গ্যাসের শেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভেতরে পড়ে। এতে স্কুল শাখার ৪০ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

স্কুলছাত্রী লামিয়ার বাবা হুমায়ুন কবির বলেন, স্কুলে পরীক্ষা ছিল। এভাবে পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া ঠিক হয়নি। এতে তার মেয়ের মতো অনেক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুলছাত্রী আয়েশার খালা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, স্কুলের ভেতরে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় কাঁদানে গ্যাসের কারণে তার বোনের মেয়ে রোকেয়া বাসার সামনে সিঁড়িতে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। তাকে তারা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে অক্সিজেন ও ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন।

মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার প্রভাষক কবির চৌধুরী বলেন, পুলিশের ছোড়া এলোপাতাড়ি কাঁদানে গ্যাসের শেল তাদের স্কুলের ভেতরে এসে পড়ে। এতে তাদের স্কুলের ৪০ ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের পানি দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় ১২ জনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) ভর্তি করা হয়েছে।

নেত্রকোনায় বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১২ পুলিশসহ অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের ছোটবাজার এলাকায় বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকে শহরের ছোট বাজারের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা এসে জড়ো হতে থাকে।

মানিকগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টার দিকে শহরের সেওতা থেকে বিএনপির বিশাল একটি মিছিল মানিকগঞ্জ জেলা শহরে প্রবেশকালে পুলিশ বাধা দেয়। খালপাড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় দলীয় নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আটক করা হয় বিএনপির কয়েক নেতাকে।

সিরাজগঞ্জে জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ শেষে পুলিশ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশ ও বিএনপির কর্মীসহ ১৫ জন আহত হয়। সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরের ই.বি রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে কেক কাটার পর সমাবেশ করে। সমাবেশের শেষ দিকে কিছু কর্মী আমাদের পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর হামলা করলে আমাদের কয়েকজন অফিসারসহ বেশ কয়েক জন সদস্য আহত হন। তখন আমরা টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের শহরের ধানবান্ধি এলাকার দিকে পাঠিয়ে দেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *