#দেশের খবর

চট্টগ্রামে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১১ ।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনাস্থলে সিগন্যাল, লাইনম্যান কোনোটাই ছিল না বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ওই রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সাদ্দামকে আটক করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে দু’টি কমিটি করা হয়েছে। মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন জানিয়েছেন, হতাহতদের সবার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজারে।

আমাদের মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নিহতরা হলেন, মাইক্রোবাসের চালক গোলাম মোস্তফা নিরু (২৬), এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. হাসান (১৭), মোহসাব আহম্মেদ (১৬), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), সাগর (১৮), আয়াতুল ইসলাম (১৯), ইকবাল হোসেন মারূপ (১৮), মাহিন (১৭), কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জিয়াউল হক সজিব (২২), ওয়াহিদুল আলম জিসান (২৩) ও রিদোয়ান চৌধুরী (২২)। আহতরা হলেন, হৃদয়, শওকত, তাসমির, আয়াত ও ইমন। আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই সদর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

এদিকে ঘটনার পরপর মিরসরাই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্ধার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের প্রায় ৪ ঘন্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিলো। বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে ট্রেনের সাথে আটকে থাকা মাইক্রোবাস উদ্ধার করার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় গেটম্যান সাদ্দামকে আটক করেছে জিআরপি পুলিশ।

মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া রেলস্টেশনের এক কিলোমিটার উত্তরে যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সড়কের ওপর লেভেল ক্রসিংয়ে ছিল না সিগন্যাল। এ কারণে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই রেললাইনের ওপর উঠে যায় মাইক্রোবাসটি। কেউ কেউ বলছেন, গেটে বাঁশ দিয়ে বাঁধা ছিল। বেলা তিনটার দিকে ওই ট্রেনের যাত্রী মো. কলিম উদ্দিন বলেন, মাইক্রোবাসটি মহাসড়কের দিকে চলে যাচ্ছিল। বৃষ্টিও পড়ছিল। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খৈয়াছড়া ঝরনা পর্যটনকেন্দ্র থেকে গোসল করে ফেরার পথে মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। রেল কর্মকর্তা আনসার আলী বলেন, ট্রেন আসায় গেটম্যান সাদ্দাম বাঁশ ফেলেছিলেন। কিন্তু মাইক্রোবাসটি বাঁশ ঠেলে ক্রসিংয়ে উঠে পড়ে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী মফিজুল হক জানান, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান ছিলেন না। তিনি জুমার নামায পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৭ জন শুক্রবার সকাল ৮টায় হাটহাজারীর আমান বাজার থেকে মাইক্রোবাসযোগে খৈয়াছড়া ঝরনায় ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে ফেরার পথে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বারতাকিয়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রামমুখী মহানগর প্রভাতী ট্রেন। এতে ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচ জন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, উদ্ধার তৎপরতা শেষ করেছে ফায়ার সার্ভিস। ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার মাইক্রোবাসটি নিয়ে গেছে ট্রেনটি। সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হতাহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে বড়তাকিয়া রেলস্টেশনে রেখেছেন। তাদের সবার নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনসার আলী বলেন, লাইনম্যান না থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি ওই সময় লাইনম্যান না থাকেন, তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *