ওল্ডহ্যামে কেন এতো দ্রুত করোনা ছড়াচ্ছে ?
সম্পাদকীয় :
গত তিন সপ্তাহে নর্থ ওয়েস্ট তথা সমগ্র ইংল্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা ভাইরাস সংক্রামণের হার দেখা গিয়েছে ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলে। এতো দ্রুত বিস্তার ইংল্যান্ডের আর কোন শহরে পরিলক্ষিত হয়নি। ওল্ডহ্যামে এক সপ্তাহে প্রতি এক লক্ষজন মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়েছে ১০৬.৩ জন। অনুপাতের হারে এই সংখ্যা সর্বাধিক এবং তা বেড়েই চলছে। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার, সবার নজর এখন ওল্ডহ্যামের দিকে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই কারণেই যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৩০শে জুলাই সমস্ত ম্যানচেস্টারকে লক ডাউনের আওতায় নিয়ে আসে।
লক ডাউনের পর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অন্যান্য বারায় কভিড -১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, ওল্ডহ্যামে বরংচ আরো বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং কাউন্সিলের যৌথ প্রচারণা থাকা সত্বেও কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা বর্ধিত এই সংখ্যাকে। কেন এমনটা হচ্ছে, এই প্রশ্নই এখন সবার মুখে?
ওল্ডহ্যামের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, এই বারার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে আলেক্সান্দ্রা পার্ক এবং ওয়ারনিত এলাকায়। কারণ অনুসন্ধানে নেমে স্বাস্থ্য কর্মীরা বেশ কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করেন :-
১. ঘন বসতিপূর্ন এলাকা।
২. একাধিক যৌথ পরিবারের স্বাস্থ্যবিধী পালনে উদাসীনতা, যার ফলে নিজেদের মধ্যেই অজান্তে সংক্রমিত হওয়া।
৩. বড় পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ভাইরাস এলাকায় ছড়িয়ে পড়া।
৪. কভিড -১৯ এর উপসর্গ দেখা দেয়ার পরও আইসোলেশনের না গিয়ে ঘুরে বেড়ানো।
৫. আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের পরামর্শ মেনে না চলা।
৬. ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির সংক্রামন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া।
৭. কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা না করা এবং তাদের গতিবিধির উপর নজর না রাখা।
৮. সরকারী ভাবে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে করোনা ভাইরাস টেস্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, তাদের কর্তব্য ঠিক মতো পালন করতে না পারা।
উপরে উল্লেখিত কারণ সমূহের ফলে ওল্ডহ্যামে আশঙ্কাজনকভাবে সংক্রামন বেড়েই চলেছে। এর নিয়ন্ত্রনার্থে কর্তৃপক্ষ কি সিন্ধান্তে উপনিত হন, এখন তাই দেখার বিষয়। আশু পদক্ষেপ না নিলে বিষয়টা শুধু ওল্ডহ্যামের মধ্যেই যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা, তা বুঝতে আর কারো বাকী নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে যাওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষ কঠোর কোন বিধি নিষেধ আরোপের দিকে যাবেন বলেই অনেকের ধারণা।





