#দেশের খবর

রাজধানীতে গ্যাসের চরম সংকট।

গত শনিবার রাত থেকে রাজধানীসহ দেশের একটি বড় অংশের মানুষ গ্যাস সংকটে পড়ে ভোগান্তি আর কষ্টের ক্ষণ গুনছে। রমজানের প্রথম দিন থেকেই রাজধানী ও আশপাশের এলাকার বহু বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। মানুষ বাজার থেকে খাবার কিনে সারছেন ইফতার-সেহরি। অনেক এলাকায় হোটেলেও মিলছে না খাবার। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস। এসব এলাকায় প্রতিদিন সাধারণত ২৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। দু’দিন ধরে সরবরাহ হচ্ছে ১৯০ কোটি ঘনফুট। ফলে রাজধানীর অলিগলির বাসায় গ্যাস মিলছে না। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গতকালও দিনভর ছিল গাড়ির লম্বা সারি।

এদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। গীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমপক্ষে ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও পেট্রোবাংলা সরবরাহ করে ১১০ থেকে ১১৫ কোটি ঘনফুট। বিবিয়ানায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুতে ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিচ্ছে পেট্রোবাংলা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলছেন, ‘সংকট কাটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। সোমবার একটি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। রাতের মধ্যে আরও দুটি কূপ উৎপাদনে আসতে পারে। মঙ্গলবার দিনের মধ্যে চালু হতে পারে আরও দুটি কূপ। একটি কূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি সংস্কারে সময় লাগবে। তিনি বলেন, আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এর মধ্যে ১০ এপ্রিল একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

দেশে এই মুহূর্তে মোট গ্যাসের চাহিদা ৪২০ কোটি ঘনফুট। বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া যায় ২৩০ কোটি ঘনফুট। আর আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে পাওয়া যায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় এলএনজি আমদানি কমে গেছে। ফলে এ খাত থেকে কয়েক দিন ধরে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস মিলছে। এর মধ্যেই শনিবার রাতে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের ছয় কূপের উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কমে যায় প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন।

গত শনিবার যেখানে ২৯৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিয়েছিল পেট্রোবাংলা, রোববার তা কমে দাঁড়ায় ২৭৮ কোটি ঘনফুট। গতকাল গ্যাস মিলেছে মাত্র ২৫০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি ১৭০ কোটি ঘনফুট।
শেভরনের ‘দায়’ :গ্যাসের সঙ্গে বালু উঠে আসায় উৎপাদন বন্ধ করেছে শেভরন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সক্ষমতার চেয়ে বেশি গ্যাস তোলা হলে এভাবে বালু আসার শঙ্কা রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১২০ কোটি ঘনফুট। শেভরন দিনে তুলেছে ১৩০ থেকে ১৩৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস। শনিবারও ১২৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস তোলা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ‘একটি গ্যাসক্ষেত্রের মজুতের ৭ শতাংশ হারে দৈনিক গ্যাস তোলা উচিত। না হলে গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বালু ও পানি উঠতে পারে।’

এদিকে, বিবিয়ানার ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা মৌলভীবাজারে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে অবস্থান করছেন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *