#দেশের খবর

শেষদিনে একুশে বইমেলায় রেকর্ড সংখ্যক বই বিক্রি হয়েছে।

২০২২ সালের অমর একুশে বইমেলায় ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১৭ গুণ বেশি বিক্রি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান মেলার সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমি পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, এবারের মেলায় কেবল বাংলা একাডেমির ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। আর পুরো মেলায় বিক্রি হয়েছে ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই। প্রকাশকদের হিসাব অনুযায়ী গত বছর মেলায় তিন কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। সে অনুযায়ী এবার ১৭ গুণ বেশি টাকার বই বিক্রি হয়েছে।

জালাল উদ্দিন বলেন, এবারের মেলায় ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে ৩ হাজার ৪১৬টি নতুন বই। বাংলা একাডেমি পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী এবারের মেলায় মানসম্মত বই প্রকাশিত হয়েছে ৯০৯টি, যা মেলায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের হিসাবে ২৫ শতাংশ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা প্রমুখ।

বাংলা একাডেমির হিসাবে, এবার মেলায় মোট বই প্রকাশ হয়েছে ৩ হাজার ৪১৬টি। এর মধ্যে ‘মানসম্পন্ন’ বই নির্বাচিত হয়েছে ৯০৯টি। যা পুরো বইয়ের ২৬ শতাংশ। ২০২০ সালে এ হার ছিল ১৫ শতাংশ।

মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, ‘এবারের মেলা স্থগিত হয়ে গিয়েছল মূলত। সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল মেলা হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ তারিখ মেলা শুরু হয়। শঙ্কার মধ্য দিয়ে সফল সমাপ্তি হয়েছে মেলার। আমার ধারণা মেলায় মোট বিক্রি ১০০ কোটি হয়েছে। কিন্তু প্রকাশকেরা সত্য বলতে চান না। সত্য বললে ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে হবে তাই। এবারে বইমেলা শুধুই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে হয়েছে। আমার সাহস হয়নি এ মেলা করার।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল গত সাত বছরে বইমেলায় মোট ৩৭৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ২০১৪ সালে বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১৬ কোটি টাকার বই, ২০১৫ সালে ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০১৭ সালে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে ৭০ কোটি টাকা, ২০১৯ সালে ৮০ কোটি টাকা, ২০২০ সালে ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর অমর একুশে বইমেলা শুরু হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমে বলা হয়েছিল মেলা হবে ১৪ দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি মেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকাশক, পাঠক ও দর্শণার্থীদের আগ্রহে বইমেলার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

এদিকে অমর একুশে বইমেলার শেষ গতকাল বৃহস্পতিবার মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এদিন মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়। তখন দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। ফলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ও শিশুদের মুখরতায় বিকেল থেকে জনারণ্যে পরিণত হয় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বিশেষ করে মেলার শেষ দিনটি ছুটির দিন হওয়ায় বইপ্রেমীদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। এদের মধ্যে অনেকেই বই কিনছেন।

বিভিন্ন প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মীরা জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষ ও ছুটির দিন বিবেচনায় দর্শনার্থী এবং পাঠকদের চাহিদা মেটাতে স্টলগুলোতে যথেষ্ট বই মজুদ রাখাসহ সব প্রস্তুতি ছিল। তবে দুপুর পর্যন্ত মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। বিকেল থেকে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে।

তথ্যসূত্র : সংগ্রাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *